রাজ্য পুলিশের ওপর আর ভরসা নেই, অভিযুক্তদের জেল থেকে ছিনিয়ে আনতে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ এনআইএ-র

রাজ্য পুলিশের ওপর আর ভরসা নেই, অভিযুক্তদের জেল থেকে ছিনিয়ে আনতে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ এনআইএ-র

বেলডাঙা কাণ্ডে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপড়েন এবার তুঙ্গে। বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন রাজ্য পুলিশ অভিযুক্তদের বহরমপুর থেকে কলকাতায় নিয়ে আসছে না, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার ক্ষোভ উগরে দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সোজাসুজি আদালতকে তারা জানিয়েছে, পুলিশের আর প্রয়োজন নেই, আদালত অনুমতি দিলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এসকর্ট দিয়েই তারা অভিযুক্তদের জেল থেকে তুলে আনবে।

পুলিশের ‘অনীহা’ বনাম এনআইএ-র জেদ

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ভয়াবহ অশান্তি ছড়িয়েছিল, তার তদন্তভার এখন এনআইএ-র হাতে। কিন্তু তদন্তের শুরুতেই বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। তাদের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করাতে চাইছে না। এদিন আদালতে এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ বলেন, “আমাদের তদন্ত এগোচ্ছে না। অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশ সুপারকে সব জানানো সত্ত্বেও কোনো সহযোগিতা মিলছে না।”

পাল্টা যুক্তি দিয়েছে রাজ্য পুলিশও। তাদের দাবি, জেলায় বর্তমানে একাধিক আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা রয়েছে, তাই অভিযুক্তদের এসকর্ট দিয়ে কলকাতায় পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী এই মুহূর্তে নেই। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাদের সাফ কথা, রাজ্যের ওপর আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। হাইকোর্টে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় হয়ে এলেও অভিযুক্তদের নাগাল না পাওয়ায় তদন্ত কার্যত থমকে রয়েছে।

কেন উত্তপ্ত হয়েছিল বেলডাঙা?

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের রহস্যমৃত্যুর পর থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি তাঁর দেহ গ্রামে ফিরলে অভিযোগ ওঠে, বাঙালি হওয়ার অপরাধে তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে খুন করা হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ড পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বেলডাঙায় জাতীয় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং শিয়ালদহ-লালগোলা লাইনে ট্রেন চলাচল স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি ডিউটি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। পুলিশের দাবি ছিল, প্রথম দিনের বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত হলেও দ্বিতীয় দিনের অশান্তি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

আদালতের দিকে তাকিয়ে সব পক্ষ

কলকাতা বিচারভবনে অভিযুক্তদের হাজির করানোর জন্য এর আগেও দু’বার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার তৃতীয়বারও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এনআইএ সরাসরি আদালতকে জানায়, “আপনি শুধু আদেশ দিন, জেল থেকে অভিযুক্তদের নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের।” এখন দেখার, আদালত এনআইএ-কে নিজেদের এসকর্টে অভিযুক্তদের আনার অনুমতি দেয় কি না। যদি তা হয়, তবে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত এক নতুন মাত্রা পাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *