আরজি কর হাসপাতালে অভাবনীয় চিকিৎসা! মৃত মানুষের হাড় এখন জীবিতের শরীরে

রাজ্যের চিকিৎসা ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন নজির গড়ল কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এই প্রথম রাজ্যে কোনো মৃত ব্যক্তির হাড় সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হলো একজন জীবিত রোগীর শরীরে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় সাফল্য রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও জটিলতা
উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা রিয়াজুদ্দিন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে হাড়ের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। তার পায়ের হাড় মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, উন্নত মানের হাড় প্রতিস্থাপন ছাড়া তার সুস্থ হওয়া প্রায় আসাম্ভব। কিন্তু জীবিত দাতার শরীর থেকে হাড় সংগ্রহ করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং জটিল।
যেভাবে এলো সাফল্য
এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরজি করের অস্থিরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে এক মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে সংগৃহীত হাড় কলকাতায় আনার ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষিত এই হাড় (Bone Graft) বিমানে করে কলকাতায় পৌঁছায়। এরপর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রিয়াজুদ্দিনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সেই হাড় সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
অস্ত্রোপচারের পর রিয়াজুদ্দিন মণ্ডল এখন সম্পূর্ণ স্থিতিশীল এবং সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে হাড় প্রতিস্থাপনের ফলে রোগীর শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কম এবং এর স্থায়িত্বও অনেক বেশি। রাজ্যে এই প্রথম এমন সফল অস্ত্রোপচার হওয়ায় উচ্ছ্বসিত চিকিৎসক মহল। এর ফলে আগামী দিনে হাড়ের জটিল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা বিদেশ বা ভিন রাজ্যে না গিয়ে খাস কলকাতাতেই সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।