বিদ্যুৎ বিল কি রাজনৈতিক তুষ্টিকরণ? রাজ্যের দেদার খয়রাতি নিয়ে নজিরবিহীন তোপ সুপ্রিম কোর্টের

নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের আগে বা পরে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার যে ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’ বা ‘রেউড়ি কালচার’ শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এবার চরম উষ্মা প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিশেষ করে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি যে রাজ্যের কোষাগারে বড়সড় থাবা বসাচ্ছে, সেই কঠোর বাস্তবটিই মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
তামিলনাড়ুর বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার একটি আর্জির শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের পরিষেবা বিলি করা আদতে রাজনৈতিক তুষ্টিকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ইস্যুতে বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসনের দিকে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং প্রশ্নাবলি
শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেছে:
- সামর্থ্যের বিচার নেই কেন: আদালত প্রশ্ন তুলেছে, বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার ক্ষমতা কার আছে আর কার নেই—তা পৃথক না করেই কেন ঢালাও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও কেন বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বেঞ্চ।
- রাজস্বের সংকট: রাজ্যের কোষাগারে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এই বিপুল আর্থিক বোঝা চাপানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
- পরিষেবার মান: বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার ফলে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলি রুগ্ন হয়ে পড়ছে কি না এবং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে পরিষেবার মান ধাক্কা খাবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বর্তমানে দেশের একাধিক রাজ্যে বিদ্যুৎ, জল বা পরিবহণে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে এই ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’র রাশ টানতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।