শ্রীরামকৃষ্ণকে ‘স্বামী’ সম্বোধন মোদীর, পাল্টায় মমতার ‘শ্রীকৃষ্ণ পরমহংস’ মন্তব্য টেনে আনল বিজেপি

শ্রীরামকৃষ্ণকে ‘স্বামী’ সম্বোধন মোদীর, পাল্টায় মমতার ‘শ্রীকৃষ্ণ পরমহংস’ মন্তব্য টেনে আনল বিজেপি

শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা একটি পোস্ট ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ঠাকুরকে ‘স্বামী’ সম্বোধন করায় কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা জবাবে বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবীয় মমতার একটি পুরনো ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘শ্রীকৃষ্ণ পরমহংসদেব’ বলতে শোনা যাচ্ছে।

বিতর্কের সূত্রপাত

সকালে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে হিন্দিতে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আমি স্তম্ভিত! প্রধানমন্ত্রী বাংলার মহাপুরুষদের প্রতি ফের সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা দেখালেন।”

বিজেপির ব্যাখ্যা

পাল্টা পোস্টে অমিত মালবীয় জানান, ‘স্বামী’ শব্দের অর্থ এখানে আধ্যাত্মিক গুরু বা প্রভু। এর সাথে সন্ন্যাসী উপাধির সম্পর্ক নেই। অদ্বৈত বেদান্তের দর্শনে ঈশ্বর ও ব্যক্তির একাত্মতা বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। বিজেপি নেতার দাবি, শ্রীরামকৃষ্ণ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ স্বামী।

মমতার ভিডিও নিয়ে কটাক্ষ

ব্যাখ্যার পাশাপাশি গত ৫ জানুয়ারি গঙ্গাসাগরের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও পোস্ট করে বিজেপি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “শ্রীকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছিলেন… যিনি গীতার বাণী লিখেছিলেন।” রামকৃষ্ণ দেবের সাথে শ্রীকৃষ্ণের নাম গুলিয়ে ফেলায় মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা ‘অজ্ঞানতার’ খোঁচা দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

বিশেষজ্ঞদের মত

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাত্ত্বিকভাবে ‘স্বামী’ সম্বোধন ভুল না হলেও বাঙালি সংস্কৃতিতে শ্রীরামকৃষ্ণকে ‘ঠাকুর’ বলাই প্রচলিত রীতি। অন্য কোনো সম্বোধন বাঙালির কানে খটকা তৈরি করে, ঠিক যেমন শিবাজিকে ‘মহারাজ’ না বললে মারাঠাদের কাছে তা আসাম্পূর্ণ মনে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *