সব ফ্রি দিলেই কি লোকে কাজ করবে? ভোটের আগে ‘খয়রাতি’ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

ভোটের আগে আমজনতাকে বিনামূল্যে চাল, ডাল, স্কুটি বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা বিলোনোর সংস্কৃতি নিয়ে এবার বেনজির কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ু বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাফ জানালেন, অভাবী মানুষকে সাহায্য করা রাষ্ট্রের কর্তব্য হলেও, সক্ষম-অক্ষম নির্বিশেষে সবাইকে সব কিছু বিলানো আসলে ‘তোষণের রাজনীতি’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
কর্মবিমুখতা ও রাজকোষ নিয়ে উদ্বেগ
সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর (Direct Cash Transfer) প্রবণতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “সকাল থেকেই যদি বিনামূল্যে খাবার, গ্যাস, সাইকেল আর নগদ টাকা মানুষের হাতে চলে আসে, তবে মানুষ কাজ করবে কেন? সব যদি থালায় সাজিয়ে পাওয়া যায়, তবে তারা কাজ শিখবে কোত্থেকে? এভাবেই কি আমরা দেশ গড়ছি?”
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ রাজ্যই বর্তমানে চরম রাজস্ব ঘাটতিতে ভুগছে। তা সত্ত্বেও হাসপাতাল বা রাস্তাঘাটের মতো দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের কাজ না করে ভোটের মুখে দেদার খয়রাতি চলছে। বিচারপতিদের মতে, করদাতাদের টাকা এভাবে বিলিয়ে দেওয়ার ফলে উন্নয়নের জন্য রাজকোষে আর এক পয়সাও অবশিষ্ট থাকছে না।
পরিকল্পিত ব্যয়ের পরামর্শ
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, কোনো সরকার যদি ভর্তুকি দিতে চায়, তবে তা আগেভাগেই বাজেটে ‘পরিকল্পিত ব্যয়’ হিসেবে দেখানো উচিত। ভোটের ঠিক আগে হঠাৎ রাজকোষ খুলে দেওয়া আর্থিক প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা তৈরি করে।
আদালতের কড়া বার্তা
- রাজ্যগুলোর পকেটে টাকা নেই, অথচ করদাতাদের টাকায় খয়রাতি চলছে।
- বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার ফলে জাতীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে।
- ভোটের আগে এই ধরণের লটারি বন্ধ হওয়া জরুরি।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ‘ফ্রি’ সংস্কৃতি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।