সিএএ আইনের ভবিষ্যৎ কী? মোদী সরকারের বিতর্কিত আইনের বৈধতা নিয়ে এবার চূড়ান্ত ময়দানে সুপ্রিম কোর্ট

সিএএ আইনের ভবিষ্যৎ কী? মোদী সরকারের বিতর্কিত আইনের বৈধতা নিয়ে এবার চূড়ান্ত ময়দানে সুপ্রিম কোর্ট

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা CAA-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পাশ করা এই আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ পিটিশনের শুনানিতে সবুজ সংকেত দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সূত্রে খবর, আগামী ৫ মে থেকে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি শুরু হতে চলেছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনছে শীর্ষ আদালত

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংসদে সিএএ পাশ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। একাধিক রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকরা এই আইনের ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এতদিন বিষয়টি ঝুলে থাকলেও, এবার বিচারপতিরা আবেদনগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই শুনানি ভারতের নাগরিকত্ব নির্ধারণের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে।

কেন এই আইন নিয়ে এত বিতর্ক?

সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মূল ভিত্তি হলো ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া। আইনের বয়ান অনুযায়ী:

  • কারা নাগরিকত্ব পাবেন: বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান শরণার্থীরা।
  • সময়সীমা: ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ বা তার আগে যারা ভারতে এসেছেন, তারাই এই সুবিধার আওতায় পড়বেন।

তবে মামলাকারীদের মূল আপত্তির জায়গা হলো ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান। কেরল সরকার প্রথম রাজ্য হিসেবে এই আইনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। মামলাকারীদের দাবি, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিপন্থী এই আইন। বিশেষ করে:

১. এই আইনে কেন আহমদিয়া মুসলিম বা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের কথা উল্লেখ নেই?

২. শ্রীলঙ্কায় নির্যাতিত হিন্দু ও খ্রিস্টান তামিলদের নাগরিকত্ব দানের প্রসঙ্গটি কেন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে?

উত্তপ্ত হতে পারে রাজনৈতিক পরিস্থিতি

২০২০ সালে রাষ্ট্রপতির সইয়ের পর বিলটি আইনে পরিণত হলেও তা কার্যকর করা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। শাহীন বাগ থেকে শুরু করে আসাম—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন চলেছে। এবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হওয়ার খবরে পুনরায় উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আদালত এই আইনের বৈধতা বজায় রাখে নাকি কোনো সংশোধনীর নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ। কেন্দ্র সরকারকে এই বিষয়ে আগেই নোটিশ জারি করেছিল আদালত, এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত দফার অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *