২০২৬ এর মহারণ শুরুর আগেই মাস্টারস্ট্রোক, হিলিতে তৃণমূলের কৃষক সংগঠনে এল একঝাঁক নতুন মুখ

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকে শাসকদলের অন্দরে বড়সড় রদবদল সম্পন্ন হলো। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে মজবুত করতে হিলি ব্লক তৃণমূল কিষান ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের নতুন ব্লক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ ত্রিমোহিনীতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে ৫২ সদস্যের এই ঢাউস কমিটির নাম ঘোষণা করে জেলা নেতৃত্ব।
এই রদবদলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হিলি ব্লক কিষান ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সনৎ চৌধুরী। পাশাপাশি সংগঠনের রাশ শক্ত হাতে ধরতে চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দীপক সূত্রধরের হাতে। জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই নতুন কমিটিকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে।
নেতৃত্বের ভিড়ে জমজমাট ঘোষণা
এদিনের এই সাংগঠনিক রদবদল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কিষান ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সভাপতি শাহেনশা মোল্লা, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি আশুতোষ সাহা, বালুরঘাট পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান অশোক মিত্র এবং হিলি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অমিত বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিলি ব্লক এসসি ওবিসি সেলের সভাপতি চৈতন্য সরকার এবং সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি সাইফুল আলম রানা। ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের অগণিত কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে অনুষ্ঠানটি এক রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ নেয়।
কেন এই আকস্মিক রদবদল?
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো কৃষিপ্রধান জেলায় কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের সমর্থন অত্যন্ত নির্ণায়ক। সেই কারণেই পুরোনো কমিটির খোলনলচে বদলে ফেলে একঝাঁক নতুন মুখকে সামনে আনা হয়েছে। ৫২ জনের এই বিশাল কমিটিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের জায়গা দেওয়া হয়েছে যাতে জনসংযোগ আরও নিবিড় করা যায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য
নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সনৎ চৌধুরী জানান, কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের স্বার্থ রক্ষাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, জেলা নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সংগঠনের প্রতিটি কর্মীকে এখন থেকে ‘অ্যাকশন মোডে’ থাকতে হবে। রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রতিটি কৃষকের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া এবং বিরোধীদের প্রচার মোকাবিলা করাই হবে এই নতুন কমিটির মূল টাস্ক।
নতুন এই কমিটির হাত ধরে হিলি ব্লকে তৃণমূল কতটা জমি শক্ত করতে পারে, এখন সেটাই দেখার। তবে নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস, এই পরিবর্তনের ফলে সংগঠন আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।