মাটির নিচে দেড় হাজার কেজি সোনার খনি, রাতারাতি ভাগ্য বদলাচ্ছে ভাগ্য

মাটির নিচে দেড় হাজার কেজি সোনার খনি, রাতারাতি ভাগ্য বদলাচ্ছে ভাগ্য

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে এবার আক্ষরিক অর্থেই সোনার খনির হদিশ মিলল। ময়ূরভঞ্জ জেলায় প্রায় ১,৪৬২ কেজি ৭৩০ গ্রাম সোনার ভাণ্ডার নিশ্চিত করেছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI)। বিধানসভায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছেন রাজ্যের বাণিজ্য ও পরিবহণমন্ত্রী বিভূতভূষণ জেনা।

তিন জেলায় গুপ্তধনের হদিশ

মন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র ময়ূরভঞ্জ নয়, দেওগড়ের আদাস-রামপল্লি এবং কেওনঝরের গোপুর-জলাদিহি বেল্টেও বিপুল পরিমাণ সোনার আকরিক চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই তিন জেলা মিলিয়ে প্রায় ১,৬৮৫ কেজি সোনার আকরিক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের মোট নয়টি জেলায় সোনার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন।

নিলামের পথে খনি ব্লক

মোহন চরণ মাঝির সরকার ইতিমধ্যেই মাদানসাহী-কাঞ্জিয়া ব্লকসহ একাধিক খনি এলাকা নিলামে তোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। ২০২৬ সালের খনি ব্লকের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। প্রায় ৩০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ব্লকগুলোতে সোনা ও তামার বিপুল ভাণ্ডার রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

লৌহ আকরিক ও ক্রোমাইটে ওড়িশা আগে থেকেই সমৃদ্ধ। এবার বিপুল পরিমাণ সোনার সন্ধান মেলায় রাজ্যের খনিজ মানচিত্রে নতুন পালক যুক্ত হলো। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনীয় সোনার সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ওড়িশায় বৃহৎ পরিসরে খনন শুরু হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার আকাশছোঁয়া দামের মধ্যে রাজ্যের কোষাগারও উপচে পড়বে। এই আবিষ্কারের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ব্যাপক শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *