ইডির বিস্ফোরক হলফনামায় অস্বস্তিতে নবান্ন, মমতার বিরুদ্ধে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ইডির বিস্ফোরক হলফনামায় অস্বস্তিতে নবান্ন, মমতার বিরুদ্ধে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সাম্প্রতিক হলফনামাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে ইডির চাঞ্চল্যকর দাবি

গত ৮ জানুয়ারি আই-প্যাক (I-PAC) দফতর এবং এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডির তল্লাশি অভিযান চলাকালীন ঘটে যাওয়া ঘটনাকে “অভূতপূর্ব ও চমকপ্রদ” বলে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। ইডির আইনজীবী এম কে মারোরিয়া আদালতে জানান, কয়লা পাচার সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের তদন্তে যখন আধিকারিকরা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছিলেন, তখন কোনো অনুমতি ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক সেখানে প্রবেশ করেন। অভিযোগ, বারবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তল্লাশি প্রক্রিয়া ব্যাহত করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইডির হলফনামায় রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। পিএমএলএ-এর ৫৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও, পুলিশ উল্টে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রাঙ্গণে প্রবেশে সহায়তা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘অস্ত্র পরীক্ষার’ অজুহাতকে স্রেফ “ছলচাতুরি” বলে উল্লেখ করেছে ইডি। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, ওই দিন ছয়টি জায়গায় তল্লাশি চললেও পুলিশ কেন শুধু লাউডন স্ট্রিট এবং সেক্টর ৫-এর নির্দিষ্ট দুটি ঠিকানাতেই হাজির হয়েছিল?

সিবিআই তদন্তের আবেদন

অবৈধ কয়লা খনন এবং আন্তঃরাজ্য হাওলা চক্রের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার অর্থপাচারের এই মামলায় আই-প্যাকের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে ইডি। সংস্থার দাবি, যেহেতু রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই সরাসরি বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই-কে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হোক। একইসঙ্গে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুলিশের দায়ের করা ‘মিথ্যা এফআইআর’গুলোও সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

এই আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং সুপ্রিম কোর্ট ইডির এই বিস্ফোরক দাবির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *