২০২৬ সালের রমজান শুরু কলকাতায়, জেনে নিন সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী

পবিত্র রমজান মাস সমাগত। বিশ্বজুড়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং রহমতে পরিপূর্ণ। ২০২৬ সালের ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কলকাতায় রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন সেহরি ও ইফতারের সময় পরিবর্তিত হয়। রোজাদারদের সুবিধার্থে কলকাতার আগামী সাত দিনের সঠিক সময়সূচী নিচে তুলে ধরা হলো।
কলকাতার আগামী ৭ দিনের সেহরি ও ইফতারের ক্যালেন্ডার
কলকাতার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের তালিকা নিচে দেওয়া হলো। স্থানীয় দিগন্ত ও উচ্চতার কারণে এই সময়ে সামান্য কয়েক মিনিটের তারতম্য হতে পারে।
| তারিখ | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৫১ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৫ মিনিট |
| ২০ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৫০ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৬ মিনিট |
| ২১ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৪৯ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৬ মিনিট |
| ২২ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৪৯ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৬ মিনিট |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৪৮ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিট |
| ২৪ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৪৭ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৮ মিনিট |
| ২৫ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৪৭ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৮ মিনিট |
| ২৬ ফেব্রুয়ারি | ভোর ৪টে ৪৬ মিনিট | সন্ধ্যা ৫টা ৩৮ মিনিট |
রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ইসলামি চন্দ্র ক্যালেন্ডারের নবম মাস হলো রমজান। এই পবিত্র মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন। এটি কেবল উপবাস নয়, বরং আত্মসংযম, প্রার্থনা এবং দান-খয়রাতির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা দিলে উদযাপিত হয় মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইদ-উল-ফিতর।
সেহরি ও ইফতারের নিয়মাবলী
রোজার মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে সেহরি ও ইফতারের ওপর। ফজরের নামাজের আগে অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তাকে বলা হয় ‘সেহরি’। এটি সারাদিন রোজা রাখার শক্তি জোগায়। অন্যদিকে, সূর্যাস্তের ঠিক পরেই মাগরিবের আজানের সাথে সাথে রোজা ভাঙার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ইফতার’।
সময় গণনার পদ্ধতি
সেহরি ও ইফতারের সময় মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। একটি নির্দিষ্ট স্থানের উচ্চতা, দিগন্ত এবং সূর্যের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আদর্শ ইসলামিক গণনা পদ্ধতিতে এই সময়সূচী তৈরি করা হয়। বিভিন্ন আইনশাস্ত্র বা স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সময়ের সামান্য পার্থক্য হতে পারে, তাই নিকটস্থ মসজিদের আজান অনুসরণ করা সর্বোত্তম।
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ বা উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সময়ের কয়েক মিনিটের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তাই নিজ নিজ জেলার সঠিক সময় জেনে নিয়ে পবিত্র রমজানের আমল শুরু করা জরুরি।