কোচবিহার পারলে বালুরঘাট কেন নয়? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের নিশানায় মমতার সরকার

বালুরঘাট ও মালদা বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা চালু না হওয়া নিয়ে এবার রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শোধালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। দক্ষিণ দিনাজপুরের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ না হওয়ার জন্য সরাসরি নবান্নের ‘ব্যর্থতা’ ও ‘ভুল নীতি’কেই দায়ী করেছেন তিনি। সংসদীয় নথিপত্র হাতে নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্র শাসিত কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে যদি বিমান উড়তে পারে, তবে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বালুরঘাট বা মালদায় কেন তা সম্ভব হচ্ছে না?
লিজের ১০ বছর পার হলেও পরিষেবা অধরা
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ২০১৬ সালের ২১ জুন রাজ্য সরকারের সঙ্গে মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দরের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবা চালুর বিষয়ে ৩০ বছরের একটি চুক্তি হয়েছিল। মাত্র ১ টাকা লিজে এই বিমানবন্দরগুলি রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়া হলেও গত ১০ বছরেও রাজ্য সরকার সেখানে পরিষেবা শুরু করতে পারেনি। তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের তোলা অভিযোগের পালটা জবাবে সুকান্ত বাবু বলেন, “কেন্দ্রের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তৃণমূল ভোট বৈতরণী পার হতে পারবে না। নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করা উচিত।”
‘গাড়ির চালক কি বিমান চালাতে পারে?’ তীব্র কটাক্ষ সুকান্তের
রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা ও আধিকারিক নিয়োগ নিয়েও এদিন বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিমান চলাচলের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞের বদলে পরিবহন দপ্তরের সাধারণ আধিকারিকদের দিয়ে বিমানবন্দর পরিদর্শন করানো হচ্ছে। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বতন পরিদর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গাড়ির চালকরা কি বিমান চালাতে পারে? বিশেষজ্ঞহীন এই নীতির কারণেই আজ বালুরঘাটের মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।”
জমি জটে আটকে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ও ১৩০০ কোটি টাকা
শুধু বিমানবন্দর নয়, জেলার সড়ক পরিকাঠামো নিয়েও সরব হয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। গাজোল থেকে হিলি পর্যন্ত ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য বরাদ্দ হওয়া ১৩০০ কোটি টাকা রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত উদাসীনতার কারণে ফেরত চলে গেছে বলে তিনি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তার অভিযোগ, কেন্দ্র জমি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দিলেও রাজ্য সরকার কোনো উত্তর দেয়নি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ফেরত যাওয়া টাকা তিনি পুনরায় বরাদ্দ করিয়ে আনবেন, কিন্তু জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক দায়িত্ব রাজ্যকেই নিতে হবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসকের অভাব নিয়ে উদ্বেগ
জেলার প্রান্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের অভাব নিয়েও এদিন সরব হন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বড় বড় দাবি করলেও বাস্তবে গ্রামীণ মানুষ নূন্যতম চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বালুরঘাটের মাটি থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ‘ব্যর্থতার খতিয়ান’ তুলে ধরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।