সোনার মূর্তির লোভে খোয়ালেন ১১ লাখ টাকা! কসবার ব্যবসায়ীর জালে যেভাবে ধরা পড়ল দুর্ধর্ষ প্রতারক

সোনার মূর্তির লোভে খোয়ালেন ১১ লাখ টাকা! কসবার ব্যবসায়ীর জালে যেভাবে ধরা পড়ল দুর্ধর্ষ প্রতারক

মাটির নিচে লুকিয়ে আছে গুপ্তধন, আর সেই সোনা জলর দরে আপনার হাতে তুলে দেওয়া হবে— সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখলেই সাবধান হয়ে যান। কসবার এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একটি ভুয়ো বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে ওই ব্যবসায়ী ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খুইয়েছেন, যদিও শেষ পর্যন্ত নিজের উপস্থিত বুদ্ধিতে মূল অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

যেভাবে শুরু হলো প্রতারণার কারসাজি

কসবার বাসিন্দা পেশায় হোটেল ব্যবসায়ী ধরমবীর সাউ ফেসবুক ও ইউটিউবে একটি বিশেষ ভিডিও দেখেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, জমি খননের সময় মাটির নিচ থেকে প্রাচীন সোনার মূর্তি ও অলঙ্কার পাওয়া গিয়েছে। কৌতূহলী ধরমবীরবাবু বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করে। শুরুতে তাঁকে সোনার একটি ছোট টুকরো পরীক্ষা করার জন্য দেওয়া হয়, যা ছিল সম্পূর্ণ খাঁটি। এই ছোট টোপ গিলে ফেলায় ব্যবসায়ীর আস্থা বেড়ে যায় এবং তিনি বড় অঙ্কের লেনদেনে রাজি হন।

১১ লাখের বিনিময়ে এল পিতলের মূর্তি

ধাপে ধাপে ধরমবীরবাবু মোট ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিনিময়ে তাঁকে দেওয়া হয় একটি সোনার গণেশ, একটি লক্ষ্মী মূর্তি এবং একটি সোনার ঘণ্টা। কিন্তু বাড়িতে আনার পর সন্দেহ হওয়ায় তিনি যখন স্বর্ণকারের কাছে ওই মূর্তিগুলি পুনরায় পরীক্ষা করান, তখন বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দেখা যায়, সেগুলি আদতে পিতল ও সস্তা ধাতুর মিশ্রণে তৈরি, যার ওপর কেবল সোনার প্রলেপ দেওয়া ছিল।

বারুইপুরে টানটান উত্তেজনা ও বীরত্ব

প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ধরমবীরবাবু ভেঙে না পড়ে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। এরই মাঝে প্রতারক চক্রটি লোভ সামলাতে না পেরে তাঁকে পুনরায় ফোন করে এবং আরও বড় একটি মূর্তি দেওয়ার টোপ দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষ্ণমোহনের কাছে ডাকে। ব্যবসায়ী পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বা পুলিশের পরামর্শ মেনে সেখানে পৌঁছান। যখনই অভিযুক্ত ফারুক বৈদ্য মূর্তিটি হস্তান্তরের চেষ্টা করে, ধরমবীরবাবু তাকে জাপটে ধরেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে এবং উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি শুরু করে।

পুলিশের তৎপরতা ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী

খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারুক বৈদ্যকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে। ধৃত ফারুক বারুইপুরের চাঁদুখালির বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ২টি নকল সোনার মূর্তি, ১টি পুজোর ঘণ্টা এবং নগদ ২ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘকাল ধরে সাধারণ মানুষকে এভাবেই বোকা বানাচ্ছিল।

বারুইপুর থানার পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বাকি সদস্যদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরণের অস্বাভাবিক সস্তা দরে সোনা বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখলে সরাসরি এড়িয়ে যাওয়ার এবং পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *