ভারতীয় সেনার উর্দির রং কি এবার গেরুয়া হবে? মোহন ভাগবতের ভিডিও ঘিরে তোলপাড় দেশ

ভারতীয় সেনার উর্দির রং কি এবার গেরুয়া হবে? মোহন ভাগবতের ভিডিও ঘিরে তোলপাড় দেশ

ভারতীয় সেনাবাহিনীর উর্দির রং বদলে যাচ্ছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে— আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নামে এমনই এক বিস্ফোরক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, মোহন ভাগবত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সেনার উর্দির রং গেরুয়া করার এবং সেনাবাহিনী থেকে নির্দিষ্ট একটি অংশকে সরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তবে এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে মুখ খুলেই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

ভাইরাল ভিডিওতে ঠিক কী দাবি করা হয়েছে?

সাম্প্রতিক এই ভাইরাল ভিডিওতে আরএসএস প্রধানকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “সেনাবাহিনীকে যদি বিশুদ্ধ রাখতে হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে সেনার উর্দি গেরুয়া করতে হবে।” শুধু তাই নয়, ভিডিওটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৮ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ৫০ শতাংশের বেশি দলিতদের সরিয়ে দিতে হবে, অন্যথায় মোদীর গদি হারানো নিশ্চিত এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন যোগী আদিত্যনাথ। এই ধরণের স্পর্শকাতর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া বার্তা ও ফ্যাক্ট চেক

পরিস্থিতি ঘোরালো হতেই ময়দানে নামে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) ‘ফ্যাক্ট চেক’ টিম। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মোহন ভাগবতের এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। আধুনিক ‘ডিপ ফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আরএসএস প্রধানের কণ্ঠস্বর এবং অঙ্গভঙ্গি নকল করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্তি

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় সেনার উর্দির রং পরিবর্তন বা সেনাবাহিনী থেকে জাতিগত ভিত্তিতে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাব আরএসএস প্রধান দেননি। এই ভিডিওটি জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতা

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমান সময়ে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে যে কোনো ব্যক্তির অবিকল ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাই সমাজমাধ্যমে কোনো সংবেদনশীল ভিডিও দেখার পর তা যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। এই ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *