উচ্চমাধ্যমিক অংকের প্রশ্নে বড়সড় গোলমাল, প্রশ্ন ছুঁলেই কি কপাল খুলছে পরীক্ষার্থীদের? জানুন সংসদের মেগা আপডেট

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এক অভাবনীয় সুখবর নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। অংক পরীক্ষা দিয়ে যারা চিন্তায় ছিলেন, তাঁদের জন্য এবার ‘জ্যাকপট’ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংসদের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, গণিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ত্রুটির কারণে পরীক্ষার্থীরা বিনামূল্যে ১০ নম্বর পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে এই নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ কিছু শর্ত।
অংকের খাতায় ১০ নম্বরের লটারি, ঠিক কী জানালো সংসদ?
গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা এখন মধ্যগগনে। বৃহস্পতিবার ছিল চতুর্থ সেমেস্টারের অংক পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হতেই শোরগোল পড়ে যায় যে, বেশ কিছু প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরে থেকে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সরকারিভাবে মেনে নিয়েছে যে, মোট ১০ নম্বরের তিনটি প্রশ্ন বাস্তবিকই আউট অফ সিলেবাস ছিল।
বিষয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সংসদ নিশ্চিত করেছে যে, প্রশ্নপত্রের কাঠামোয় অসঙ্গতি ছিল। এর ফলে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী বিপাকে পড়েছিলেন। সেই দুশ্চিন্তা দূর করতেই সংসদ এবার উদারহস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোন ৩টি প্রশ্ন ‘টাচ’ করলেই মিলবে ফুল মার্কস?
সংসদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেই প্রশ্নগুলি, যেগুলির জন্য পরীক্ষার্থীরা পূর্ণ নম্বর পাবেন। একনজরে দেখে নিন কোন কোন প্রশ্নে ছিল গলদ:
- প্রশ্ন নম্বর ২বি (2B): এই প্রশ্নের মান ছিল ২ নম্বর।
- প্রশ্ন নম্বর ১১বি (11B): এই প্রশ্নের মান ছিল ৪ নম্বর।
- প্রশ্ন নম্বর ১১সি (11C): এই প্রশ্নের মান ছিল ৪ নম্বর।
অর্থাৎ, এই তিনটি প্রশ্ন মিলিয়ে মোট ১০ নম্বর বরাদ্দ ছিল যা সিলেবাস বহির্ভূত বলে গণ্য করা হয়েছে।
নম্বর পাওয়ার আসল শর্তটি কী?
সংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ১০ নম্বর কিন্তু সবাই ঢালাওভাবে পাবেন না। নম্বর পাওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের একটি বিশেষ শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী:
১. যে সমস্ত পরীক্ষার্থী খাতার মধ্যে এই নির্দিষ্ট তিনটি প্রশ্ন সমাধান করার ন্যূনতম চেষ্টা (Attempt) করেছেন, তাঁরাই কেবল পূর্ণ নম্বর পাবেন।
২. উত্তরের মান সঠিক হোক বা ভুল, কিংবা কেউ যদি শুধু প্রশ্ন নম্বর লিখে কাটাকুটিও করে থাকেন, তাহলেও তিনি সেই প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ নম্বর পাবেন।
৩. তবে যারা এই প্রশ্নগুলি একেবারেই স্পর্শ করেননি বা খাতায় কোনো উল্লেখ করেননি, তাঁরা এই বাড়তি নম্বরের সুবিধা পাবেন না।
নতুন সেমেস্টার পদ্ধতি ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
২০২৬ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়নে আমূল পরিবর্তন এনেছে সংসদ। দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসকে দুটি সেমেস্টারে (সেমেস্টার ৩ ও ৪) ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি থিওরি পরীক্ষা হচ্ছে ৪০ নম্বরের। এবারের পরীক্ষায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ২,১০০টি কেন্দ্রে ৭ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী বসেছেন। অংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ১০ নম্বরের এই ছাড় কয়েক লক্ষ পড়ুয়াকে নিশ্চিত ফেলের হাত থেকে বাঁচাবে অথবা মেধাতালিকায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে শিক্ষক মহল।
সংসদের এই দ্রুত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা।