ওম বিড়লাকে অপমানের ‘বদলা’ নিতে রাহুল গান্ধীকে খুনের হুমকি, গ্রেফতার করনী সেনা নেতা

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে অপমানের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ ১৫ জন সাংসদকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুনের হুমকি দিয়ে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এক যুবকের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের কোটায়। ধৃত যুবকের নাম রাজ সিং, যিনি নিজেকে কট্টরপন্থী রাজপুত সংগঠন ‘করনী সেনা’র স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
হুমকির নেপথ্যে আসল কারণ কী?
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ ফেব্রুয়ারি, যখন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দেয় কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ স্পিকারের বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ পক্ষপাতমূলক’ আচরণের অভিযোগ তোলেন। বিরোধীদের দাবি ছিল, সংসদ চলাকালীন বিরোধী নেতাদের মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের যথাযথভাবে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানই কাল হয়ে দাঁড়ায় রাজ সিংয়ের কাছে।
ভিডিও বার্তায় সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে রাজ সিংকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তাঁর পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্পিকার ওম বিড়লার ছবি ঝুলতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওতে রাজ দাবি করেন, বাজেট অধিবেশন চলাকালীন রাহুল গান্ধীর প্ররোচনাতেই স্পিকারকে অপমান করেছেন বিরোধী সাংসদরা।
তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাহুল গান্ধী ভালো করে শুনে রাখুন, যদি আবারও এমন ঘটনা ঘটে, তবে আমরা আপনার বাড়িতে ঢুকে আপনাকে গুলি করব।” শুধু তাই নয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত বিরোধী সাংসদদের গ্রেফতার করা না হলে তিনি নিজে তাঁদের শেষ করে দেবেন বলেও হুমকি দেন।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতারি
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেলে নড়েচড়ে বসে রাজস্থান পুলিশ। কোটার পুলিশ সুপার তেজস্বিনী গৌতম জানিয়েছেন, খুনের হুমকি দেওয়ার অপরাধে রাজ সিংকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক একটি কট্টরপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পুলিশ খতিয়ে দেখছে এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না।
বর্তমানে ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে কোটা পুলিশ। সংসদের অন্দরে রাজনৈতিক লড়াই যে রাজপথের খুনের হুমকিতে রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তার এক চরম নিদর্শন হয়ে থাকল।