ক্লাসরুমে ঢুকে শিক্ষককে তুলোধনা বিজেপি বিধায়কের, কাণ্ড দেখে পুলিশের দ্বারস্থ স্কুল কর্তৃপক্ষ

ইন্দাসের কুশমুড়ি হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ক্লাসরুমে তখন সবে পড়াশোনা শুরু হয়েছে। আচমকাই নিরাপত্তারক্ষী এবং ক্যামেরাম্যান নিয়ে সেখানে হাজির এলাকার বিজেপি বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়া। অভিযোগ, বিনা অনুমতিতে ক্লাসে ঢুকে শিক্ষক গোলকবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়কে পড়ুয়াদের সামনেই চূড়ান্ত অপমান ও আসাম্মান করেন তিনি। বিধায়কের এই ‘দাদাগিরি’র ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়।
বিজেপি বিধায়কের এমন আচরণে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে জরুরি বৈঠক ডাকে স্কুল পরিচালন সমিতি। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়ার বিরুদ্ধে ইন্দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিমলেন্দু সরকার। প্রধান শিক্ষকের দাবি, বিধায়কের এই আচরণে স্কুলের পঠনপাঠনের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং পড়ুয়াদের মনে ভীতি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বিধায়ক নির্মল ধাড়া একে ‘সামাজিক কাজের বাধা’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর পালটা দাবি, এলাকার বিধায়ক হিসেবে স্কুলের হালহকিকত খতিয়ে দেখা তাঁর কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। তিনি বলেন, “সমাজের জন্য কাজ করতে গেলে কিছু মানুষ সমালোচনা করবেই। আমি কোনও অপরাধ করিনি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষই এর যোগ্য জবাব দেবেন।”
তৃণমূলের ইন্দাস ব্লক সভাপতি শেখ হামিদ অবশ্য বিধায়কের এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিধায়ক পরিদর্শনে যেতেই পারেন, কিন্তু দলবল এবং ক্যামেরা নিয়ে ক্লাসের মাঝপথে ঢুকে শিক্ষককে হেনস্থা করা স্রেফ ‘মূর্খতা’র পরিচয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ইন্দাসের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। আপাতত পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ।