রিপোর্ট না দিলেই বন্ধ হবে ব্যবসা? ৪০টি নামী খাদ্য সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের মুখে

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় খাদ্য সুরক্ষা বিধি নিয়ে এবার চরম কড়াকড়ি শুরু করল প্রশাসন। বার্ষিক উৎপাদন এবং আয়ের হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জেলার প্রায় ৪০টি খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড করার জন্য বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও, ওই সংস্থাগুলি তা সম্পূর্ণ গ্রাহ্য করেনি বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও রিপোর্ট জমা না পড়ায় এই সংস্থাগুলির ওপর সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক উৎপাদন এবং আয়ের খতিয়ান জমা দেওয়া প্রতিটি খাদ্য উৎপাদনকারী ইউনিটের জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ৪০টি সংস্থা সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোয় চরম ক্ষুব্ধ খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ।
কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বকেয়া জরিমানার টাকা অবিলম্বে সরকারি কোষাগারে জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির লাইসেন্স আর পুনর্নবীকরণ (Renewal) করা হবে না। লাইসেন্স বাতিল হলে ওই সংস্থাগুলি আর আইনত কোনো খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন বা বিক্রি করতে পারবে না।
আইনি জটিলতায় ব্যবসায়ীরা
রিপোর্ট জমা না দেওয়ার এই গাফিলতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। শুধুমাত্র জরিমানা নয়, নির্দেশ অমান্যকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলার খাদ্য উৎপাদন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনিক এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হলো খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রতিটি সংস্থার উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি নিশ্চিত করা।