চাষি পাত্রদের বিয়ে করলেই মিলবে সরকারি সুবিধা? বিধায়কের আজব প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়

চাষি পাত্রদের বিয়ে করলেই মিলবে সরকারি সুবিধা? বিধায়কের আজব প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়

বেঙ্গালুরু: কৃষিপ্রধান দেশে অন্নদাতাদের কি এবার সংসার পাততেও সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন হবে? কর্নাটকের এক কংগ্রেস বিধায়কের সাম্প্রতিক দাবি ঘিরে এমনই এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ ভারতের এক গভীর সামাজিক সমস্যাকে সামনে রেখে তিনি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার কাছে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঠিক কী দাবি করেছেন বিধায়ক?

কর্নাটকের কুনীগাল বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক এইচ ডি রঙ্গানাথ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কৃষকদের বিবাহ বিভ্রাট নিয়ে মুখ খোলেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় এক অদ্ভুত সংকট তৈরি হয়েছে। শিক্ষিত এবং কর্মরতা মহিলারা কোনোভাবেই কৃষক পাত্রদের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে চাইছেন না। তাঁদের প্রথম পছন্দ হলো শহুরে জীবন এবং তথাকথিত কর্পোরেট বা সরকারি চাকুরিজীবী পাত্র। এর ফলে গ্রামে হাজার হাজার যোগ্য কৃষক পাত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁরা বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে পাচ্ছেন না।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের রূপরেখা

এই সামাজিক অনীহা দূর করতে এবং কৃষকদের প্রতি নারীদের আকর্ষণ বাড়াতে বিধায়ক রঙ্গানাথ একটি বিশেষ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকার যদি এমন কোনো প্রকল্প চালু করে যেখানে কৃষককে বিয়ে করলে ওই মহিলাকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা বা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। তিনি মনে করেন, ইনসেনটিভ বা উৎসাহভাতা প্রদানের মাধ্যমে নারীদের কৃষকদের প্রতি আগ্রহী করে তোলা যেতে পারে।

বিতর্কের ঝড়

বিধায়কের এই প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, বিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও আবেগগত বিষয়, সেখানে সরকার যদি আর্থিক প্রলোভন দেখায় তবে তা সম্পর্কের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। অন্যদিকে, কেউ কেউ বিষয়টিকে লিঙ্গবৈষম্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখছেন। তবে কৃষকদের বড় একটি অংশ বিধায়কের এই সাহসী প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, চাষবাস যে একটি সম্মানজনক পেশা এবং কৃষকরাও যে সুন্দর পারিবারিক জীবন পাওয়ার যোগ্য, সেই বার্তাটি সমাজে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।

এখন দেখার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং কর্নাটক সরকার এই অদ্ভুত অথচ বাস্তবধর্মী দাবিটিকে কতটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। কৃষকদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় এটি কি নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচন করবে, নাকি নিছকই রাজনৈতিক গিমিক হিসেবে রয়ে যাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *