বাংলাদেশের জন্য দারুণ খবর! ভারত ভ্রমণে আর থাকছে না কোনো বাধা

দীর্ঘ টানাপোড়েন আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় সিনিয়র কূটনীতিক অনিরুদ্ধ দাস এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়াদিল্লি।
সম্পর্কের বরফ গলছে
বিগত মহম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছিল। সেই সময় ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল সাধারণ মানুষকে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার গঠনের সাথে সাথেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকার এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে সব পরিষেবা
আপাতত জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে মেডিকেল ভিসা এবং ডাবল-এন্ট্রি ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে। তবে পর্যটকদের জন্য সুখবর হলো, খুব শীঘ্রই টুরিস্ট ভিসা বা ভ্রমণ ভিসাসহ অন্যান্য সমস্ত ক্যাটাগরির ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। সিনিয়র কূটনীতিক অনিরুদ্ধ দাসের ভাষ্যমতে, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধিই এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য।
কেন এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ
- চিকিৎসা সেবা: হাজার হাজার বাংলাদেশি রোগী যারা ভারতে উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা এখন সহজেই মেডিকেল ভিসা পাবেন।
- ব্যবসায়িক গতিশীলতা: ডাবল-এন্ট্রি ভিসা চালুর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা বাংলাদেশের সাথে সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
ভারতীয় হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন আগের মতোই নির্বিঘ্নে ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারবেন।