জন্মদিনে শ্রীঘরে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রু! বন্ধু ট্রাম্পের গলায় চরম আফসোস

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবার আক্ষরিক অর্থেই কাল হলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রাক্তন সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর জন্য। বার্থডে কেক কাটার আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল পুলিশের জেরার মুখে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার লন্ডনে গ্রেফতার করা হলেন কিং চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। আর এই ঘটনায় আটলান্টিকের ওপার থেকে গর্জে উঠলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোটা বিষয়টিকে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
কী অভিযোগে গ্রেফতার হলেন অ্যান্ড্রু?
৬৪ বছর বয়সী অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মূলত ‘মিসকন্ডাক্ট ইন পাবলিক অফিস’ বা সরকারি পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশ (টেমস ভ্যালি পুলিশ) বার্কশায়ার এবং নরফোকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। যদিও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আপাতত তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। কাকতালীয়ভাবে, যেদিন তাঁকে গ্রেফতার করা হলো, সেদিনই ছিল তাঁর জন্মদিন। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে চাইলেও পুলিশ স্টেশন থেকে বেরোনোর সময় ক্যামেরাবন্দি হন তিনি।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও রাজপরিবারের অস্বস্তি
অ্যান্ড্রুর এই পরিণতিতে ব্যথিত তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জার বিষয়। রাজপরিবারের জন্য এর চেয়ে খারাপ খবর আর হতে পারে না।” উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টাইনের সেক্স ট্র্যাফিকিং কেলেঙ্কারিতে অ্যান্ড্রুর নাম জড়ানোর পর থেকেই ট্রাম্প বরাবরই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
অন্যদিকে, ভাইয়ের এই কেলেঙ্কারিতে রাজপরিবারের সম্মান বাঁচাতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। বাকিংহাম প্যালেস থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আইন তার নিজের পথেই চলবে।” রাজা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই তদন্তে রাজপ্রাসাদ পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাড়তি মন্তব্য করা হবে না।
বিতর্কের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি
জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, এপস্টাইনের মাধ্যমে নাবালিকাদের সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হতেন তিনি। যদিও শুরু থেকেই অ্যান্ড্রু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তবে বিতর্ক ধামা চাপা থাকেনি। এর আগেই অ্যান্ড্রুর থেকে ‘প্রিন্স’ উপাধি কেড়ে নিয়েছিলেন রাজা। এমনকি উইন্ডসরে তাঁর দীর্ঘদিনের বাসভবন থেকেও তাঁকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সংক্রান্ত নতুন কিছু নথি প্রকাশ করার পর থেকেই অ্যান্ড্রুর ওপর আইনি চাপ বাড়ছিল, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটল এই গ্রেফতারে।