সিপিএমে ভিন্নমতের ভবিষ্যৎ: সৈফুদ্দিন থেকে প্রতীক উর, কোণঠাসা হওয়ার ইতিহাস?

সিপিএমে ভিন্নমতের ভবিষ্যৎ: সৈফুদ্দিন থেকে প্রতীক উর, কোণঠাসা হওয়ার ইতিহাস?

কমিউনিস্ট পার্টিতে ‘গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা’র আদর্শ থাকলেও বাস্তবে ভিন্নমত পোষণকারীরা বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। নৃপেন চক্রবর্তী, সৈফুদ্দিন চৌধুরী বা সমীর পুততুন্ডের মতো নেতারা দলের কৌশলের বিরোধিতা করে একসময় ব্রাত্য হয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমানের ক্ষোভ ও সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার সেই পুরনো বিতর্ককেই উসকে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নেতৃত্বকে প্রশ্ন করলেই তাকে ‘ঝাঁকের কই’ না হওয়ার খেসারত দিতে হয়।

প্রতীক উরের দাবি, বর্তমান রাজ্য সম্পাদকের জমানায় সমালোচনা করায় তাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সাক্ষাতের মতো বিষয় নিয়ে মুখ খোলায় তিনি নেতৃত্বের রোষানলে পড়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অতীতেও দেখা গেছে, যাদের পথ একসময় দল প্রত্যাখ্যান করেছিল, পরবর্তীকালে সেই পথেই হাঁটতে বাধ্য হয়েছে সিপিএম।

ক্ষমতাহীন অবস্থায় দলের একনিষ্ঠ ও মেধাবী কর্মীদের গুরুত্ব অপরিসীম। অনুরাধা পুততুন্ডের মতে, বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সিপিএম তার রক্ষণশীল মনোভাব ত্যাগ করতে পারেনি। ভিন্নমতকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে কণ্ঠরোধ করার এই প্রবণতা দলের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। প্রতীক উরদের মতো সম্পদদের সঠিক ব্যবহার না করলে সিপিএমের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *