রোজা না রাখায় নাইজেরিয়ায় ৯ মুসলিমকে পাকড়াও করল ইসলামিক পুলিশ

রোজা না রাখায় নাইজেরিয়ায় ৯ মুসলিমকে পাকড়াও করল ইসলামিক পুলিশ

রমজান মাসের প্রথম দিনেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায়। কানো প্রদেশে রোজা না রেখে দিনের বেলা খাবার খাওয়ার অপরাধে সাতজন পুরুষ ও দুজন মহিলাসহ মোট ৯ জন মুসলিমকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় ইসলামিক পুলিশ, যা ‘হিসবাহ’ নামে পরিচিত। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শরিয়া আইনের প্রয়োগ নিয়ে তর্কের ঝড় তুলেছে।

কেন এই গ্রেফতারি

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য কানোতে ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি কড়া ইসলামিক শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় প্রতি বছরই সেখানে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাজারে বিশেষ অভিযান চালায় হিসবাহ বাহিনী। পুলিশের দাবি, ধৃতরা রমজান মাস শুরু হওয়ার বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করে ‘অজ্ঞতার ভান’ করছিলেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার নিষিদ্ধ থাকলেও তারা সর্বসমক্ষে খাদ্য গ্রহণ করছিলেন বলে অভিযোগ।

শরিয়া আইনের প্রয়োগ ও বিতর্ক

নাইজেরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক ইসলাম ধর্মাবলম্বী, যাদের সিংহভাগই বাস করেন দেশটির উত্তরাঞ্চলে। প্রায় দুই দশক আগে উত্তরের ১২টি রাজ্যে সাধারণ আইনের পাশাপাশি শরিয়া আইন প্রবর্তন করা হয়। তবে মজার বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যের কট্টর ইসলামিক দেশগুলোতেও সাধারণত রোজা রাখা বাধ্যতামূলক করার মতো কোনো আইন নেই। ভারত, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশেও ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতেই রোজা পালন করা হয়। কিন্তু কানো প্রদেশে ইসলামিক অনুশাসন নিশ্চিত করতে এই বিশেষ পুলিশি অভিযান রীতিমতো নজর কেড়েছে।

শাস্তির বদলে ‘শিক্ষা’

গ্রেফতারের পর অবশ্য তাদের কঠোর কোনো সাজা দেওয়ার কথা জানায়নি প্রশাসন। হিসবাহর ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল মুজাহিদ আমিনুদ্দিন জানিয়েছেন, ধৃতদের নামাজের পদ্ধতি, কোরআন পাঠ এবং একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের গুরুত্ব বোঝানো হবে। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে তারা নিষ্ঠার সঙ্গে রোজা পালন করেন।

রোজার গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম, যা আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস হিসেবে পালিত হয়। নাইজেরিয়ায় এবার ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়েছে। কানোর যেসব এলাকায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বাস করেন, সেখানে অবশ্য কিছু দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ খোলা রাখা হয়েছে। তবে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় প্রশাসনের এই কড়াকড়ি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *