ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে স্টমাক ফ্লু! পেটের রোগ আর জ্বরের আসল কারণ কি কেবল খাবার না কি অন্য কোনো বিপদ

ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে স্টমাক ফ্লু! পেটের রোগ আর জ্বরের আসল কারণ কি কেবল খাবার না কি অন্য কোনো বিপদ

বর্তমানে শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি বাড়িতেই হানা দিচ্ছে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং পেটের মারাত্মক সমস্যা। সাধারণ মানুষ একে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব বা খাদ্যাভ্যাসের ত্রুটি বলে মনে করলেও চিকিৎসকরা শোনালেন এক অশনি সংকেত। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই অসুস্থতার নেপথ্যে কেবল অনিয়ম নয়, বরং সক্রিয় হয়ে উঠেছে একগুচ্ছ ভয়ংকর ভাইরাস।

আসল খলনায়ক যখন ভাইরাস

চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ছোট-বড় নির্বিশেষে যে পেটের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, তার প্রধান কারণ হলো ‘ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘স্টমাক ফ্লু’ নামে পরিচিত। এই রোগের জন্য দায়ী মূলত তিনটি ভাইরাস:

  • নোরোভাইরাস: এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং পেটে অসহ্য যন্ত্রণা ও বমির কারণ।
  • রোটাভাইরাস: যা ডায়রিয়ার প্রকোপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • অ্যাস্ট্রোভাইরাস: এই ভাইরাসটি মূলত শিশু এবং বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দিয়ে পেটের সংক্রমণ ঘটায়।

কেন ভয়াবহ হয়ে উঠছে এই সংক্রমণ

শীত ও গরমের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়া পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এই ভাইরাসগুলো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে। দূষিত জল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে খাদ্যনালিতে। এছাড়া বর্তমানে কায়িক পরিশ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে হজমের ক্ষমতা কমছে, যা ভাইরাসকে আরও সহজে আক্রমণ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ প্রাণঘাতীও হতে পারে।

প্রধান উপসর্গসমূহ যা এড়িয়ে যাওয়া বিপদজনক

যদি আপনার বা আপনার পরিবারের কারও মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি:

১. বারবার বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব।

২. তীব্র ডায়রিয়া বা পেট খারাপ।

৩. পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা এবং পেট ফাঁপা।

৪. হালকা জ্বর ও শরীরের পেশিতে ব্যথা।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

এই গণ-সংক্রমণ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন:

  • পাহাড়প্রমাণ পরিচ্ছন্নতা: খাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এটি সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম ধাপ।
  • জল পানে সতর্কতা: কেবল বিশুদ্ধ বা ফোটানো জল পান করুন। রাস্তার খোলা জল বা বরফ মেশানো পানীয় এই সময়ে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
  • জীবনযাত্রায় বদল: বাসি খাবার বর্জন করুন এবং তন্তুসমৃদ্ধ বা ফাইবারযুক্ত খাবার সঠিক পরিমাণে খান। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রাথমিক চিকিৎসা: শরীর জলশূন্য হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ওআরএস (ORS) বা নুন-চিনির জল পান শুরু করতে হবে।

যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে, তবে ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে এই ভাইরাল আক্রমণ থেকে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *