সরকারি প্রকল্পের জনকল্যাণ ও খয়রাতির পার্থক্য স্পষ্ট করতে হবে: সুপ্রিম কোর্ট

তামিলনাড়ুর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া ‘খয়রাতি’ এক নয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, রাজ্যগুলিকে তাদের বাজেটে নির্দিষ্টভাবে দেখাতে হবে এই ধরনের জনমুখী প্রকল্পের অর্থ জোগান কোথা থেকে আসবে। আদালত মনে করে, অপরিকল্পিত ভর্তুকি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে ‘ভোটমুখী মাস্টারপ্ল্যান’ বললেও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পগুলো আসলে পিছিয়ে পড়া মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অংশ। রাজ্যের দাবি, এসব জনমুখী প্রকল্পের রূপরেখা বাজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে।
বিচারপতিদের মতে, অনেক রাজ্য বর্তমানে আয়-ব্যয়ের ঘাটতিতে ভুগছে। অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলো সমস্যায় পড়ছে এবং উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ থাকছে না। আদালত মন্তব্য করেছে যে, খয়রাতির পরিবর্তে ওই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত। জনকল্যাণমূলক নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও দূরদর্শী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।