খামেনিকে ট্রাম্পের ১৫ দিনের চরম হুঁশিয়ারি! ওমান উপসাগরে যুদ্ধের মহড়া শুরু করল ইরান ও রাশিয়া

খামেনিকে ট্রাম্পের ১৫ দিনের চরম হুঁশিয়ারি! ওমান উপসাগরে যুদ্ধের মহড়া শুরু করল ইরান ও রাশিয়া

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা কি তবে বেজেই গেল? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মধ্যেকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। একদিকে হোয়াইট হাউসের ১৫ দিনের কড়া আল্টিমেটাম, অন্যদিকে ওমান উপসাগরের নীল জলরাশিতে ইরান ও রাশিয়ার যৌথ রণকৌশল—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন বারুদের গন্ধ।

উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও রণতরী মোতায়েন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ চুক্তিতে না এলে তেহরানকে চরম পরিণতির মুখে পড়তে হবে। কেবল হুঁশিয়ারিতেই ক্ষান্ত থাকেনি আমেরিকা; আরব সাগরে ইতিপূর্বেই মোতায়েন করা হয়েছে পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘USS Abraham Lincoln’। সেই সঙ্গে শক্তি বাড়াতে ওই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রণতরী ‘USS Gerald R. Ford’। পেন্টাগনের এই তৎপরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।

পাল্টা চালে তেহরান ও মস্কোর যৌথ হুঙ্কার

আমেরিকার চাপের মুখে মাথা নোয়াতে নারাজ ইরান। পাল্টা জবাব দিতে ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়া শুরু করেছে তেহরান। এই মহড়া বিশ্বরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামী সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ক্ষমতা কারও নেই। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা তারা মুখ বুজে সহ্য করবে না। খামেনির প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বহিরাগত কোনো আগ্রাসন হলে তার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক: নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

যুদ্ধের আশঙ্কা এতটাই প্রবল যে, একাধিক দেশ ইতিমধ্যে ইরান থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ইরানে বসবাসরত পোলিশ নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, একবার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা আসাম্ভব হয়ে পড়বে। ইউরোপের অন্য দেশগুলোও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

ভারতের উদ্বেগ ও বৈশ্বিক প্রভাব

পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের ওপর। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে নয়াদিল্লি এই মুহূর্তে চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল গরম, অন্যদিকে সমুদ্রের বুকে যুদ্ধের মহড়া; এখন দেখার বিষয় ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর বিশ্বরাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *