বিদেশে বাসন মাজার সত্য ফাঁস করতেই চরম শাস্তি পেলেন পাক অধিনায়ক

বিদেশে বাসন মাজার সত্য ফাঁস করতেই চরম শাস্তি পেলেন পাক অধিনায়ক

পাকিস্তানের জাতীয় খেলার মান এখন তলানিতে, আর সেই দুর্দশার কথা প্রকাশ্যে আনতেই ধেয়ে এল শাস্তির খাঁড়া। বিদেশের মাটিতে চূড়ান্ত অপদস্থ হওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে কার্যত পাক হকি ফেডারেশনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক আম্মাদ বাট। সেই ‘অপরাধেই’ এবার তাঁকে দুই বছরের জন্য নির্বাসিত করল পাকিস্তান হকি ফেডারেশন। মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন মাঠের বাইরের এই নোংরা রাজনীতি নিয়ে উত্তাল ক্রীড়া বিশ্ব।

হোটেল থেকে বিতাড়ন ও রাস্তায় রাত কাটানো

ঘটনাটি ঘটে এফআইএইচ প্রো লিগের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তান হকি ফেডারেশন সময়মতো হোটেলের টাকা পরিশোধ না করায় মাঝপথেই বুকিং বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে মাঝরাস্তায় ব্যাগপত্র নিয়ে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতে হয় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের। এমনকি পেটের দায়ে এবং আশ্রয়ের খোঁজে তাঁদের বিদেশের হোটেলে বাসন মাজার মতো অবমাননাকর কাজও করতে হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেন আম্মাদ।

ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আম্মাদের গর্জন

সফর থেকে ফিরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে ফেটে পড়েন অধিনায়ক। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমাদের সঙ্গে কোনো মানুষের মতো আচরণ করা হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, জোটেনি খাবারও। এই বর্তমান কর্তাদের অধীনে খেলা চালিয়ে যাওয়া আসাম্ভব।” আম্মাদ আরও ফাঁস করেন যে, এই চরম অব্যবস্থাপনার কথা বাইরে বললে খেলোয়াড়দের কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল ফেডারেশন কর্তারা।

নির্বাসন ও পাক হকির ভবিষ্যৎ

আম্মাদের এই সাহসিকতার দাম দিতে হলো নির্বাসনের মাধ্যমে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও এই বিতর্কের মাঝেই পদত্যাগ করেছেন হকি ফেডারেশনের শীর্ষকর্তা তারিক বুগতি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেও, খোদ অধিনায়ককে বলির পাঁঠা করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একেই আর্থিক অনটনে ধুঁকছে পাক হকি, তার ওপর দলের সেরা তারকাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া দেশের হকির কফিনে শেষ পেরেক কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *