মাসে পাবেন মোট ৫৫০০ টাকা, যুবসাথী ও কৃষক বন্ধু নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরাট সুখবর

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য খুলে গেল আয়ের নতুন দিগন্ত। এবার থেকে রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাসিক ১৫০০ টাকা এবং ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা—উভয়ই একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নবান্নের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে খুশি রাজ্যের কয়েক লক্ষ আবেদনকারী।
যুবসাথী ও কৃষক বন্ধু কি একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব
সাধারণত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কোনো পেনশন বা নিয়মিত ভাতা পান, তবে তিনি যুবসাথী প্রকল্পের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। কিন্তু বর্তমান নির্দেশিকায় এক চাঞ্চল্যকর ও ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্ত টাকা আদতে কোনো ‘পেনশন’ নয়, বরং এটি কৃষকদের জন্য একটি এককালীন আর্থিক সহায়তা বা অনুদান।
জেলাশাসকদের বিশেষ নির্দেশ
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের (DM) মৌখিকভাবে এই বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি কোনো যুবক বা যুবতী কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পান, তবে সেটি তার যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। অর্থাৎ, কৃষক পরিবার থেকে আসা যোগ্য প্রার্থীরা এখন নিশ্চিন্তে যুবসাথী প্রকল্পের ১৫০০ টাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
পকেটে আসবে মাসে ৫৫০০ টাকা
এই নতুন সমীকরণের ফলে একজন উপভোক্তার হাতে বড় অঙ্কের টাকা আসার পথ প্রশস্ত হলো। একদিকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের বার্ষিক অনুদান এবং অন্যদিকে যুবসাথীর মাসিক ১৫০০ টাকা—সব মিলিয়ে একজন প্রাপক বছরে মোট ৫৫০০ টাকা বা তারও বেশি সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠছেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও পদ্ধতি
- আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- যুবসাথী প্রকল্পের জন্য এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম নথিভুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
- কৃষক বন্ধুর সুবিধা পেলেও আবেদনপত্র বাতিল হবে না, যদি আবেদনকারী অন্য কোনো সরকারি পেনশন না পান।
রাজ্য সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র যেমন বদলাবে, তেমনই কৃষি নির্ভরশীল পরিবারের শিক্ষিত যুবকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।