মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণে আর বাধা নেই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে হুমায়ুন কবীর

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণে আর বাধা নেই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে হুমায়ুন কবীর

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভারতে বাবর বা বাবরি মসজিদের নামে কোনো মসজিদ তৈরি করা যাবে না— এই মর্মে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, মুঘল সম্রাট বাবর একজন “হিন্দু-বিরোধী আক্রমণকারী” ছিলেন, তাই তাঁর নামে কোনো উপাসনালয় হতে পারে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই দাবি মানতে নারাজ।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মামলার প্রেক্ষাপট

মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী সওয়াল করেন যে, মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীর একটি মসজিদ তৈরি করছেন যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাবরি মসজিদ’। এটি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সংক্ষিপ্ত শুনানির পরই জানিয়ে দেয়, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ফলে মুর্শিদাবাদে মসজিদ তৈরির পথে যে আইনি কাঁটা ছিল, তা আপাতত সরে গেল।

হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার ও আগামীর পরিকল্পনা

২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এই মসজিদের শিলান্যাস করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। আদালতের এই রায়ের পর তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “ভারতের সংবিধান আমাকে ধর্ম পালনের ও উপাসনালয় গড়ার অধিকার দিয়েছে। আমি অসাংবিধানিক কিছু করছি না। যে কেউ মন্দির বা গির্জা তৈরি করতে পারলে, আমি কেন মসজিদ করতে পারব না?”

কেবল মসজিদ নয়, এই প্রকল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। হুমায়ুন কবীরের পরিকল্পনা অনুযায়ী:

  • বাবরি মসজিদ: মূল উপাসনালয় হিসেবে নির্মিত হবে।
  • মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল: সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য উন্নত মানের স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
  • আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়: সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া সমাজের শিক্ষার প্রসারে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

মুর্শিদাবাদের এই মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক কম হয়নি। একদিকে যেমন ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার আবেগ জড়িয়ে আছে এই প্রকল্পের সঙ্গে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “আল্লাহ যার সাথে আছেন, তাকে কেউ থামাতে পারবে না। এই মসজিদের একটা ইটও কেউ সরাতে পারবে না।”

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর সংলগ্ন এলাকায় এই নির্মাণ কাজ এখন আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে হুমায়ুন কবীর এখন তাঁর ঘোষিত ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ বাস্তবায়নে মরিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *