ভোটের মুখে রাজ্যে কর্মসংস্থানের জোয়ার, ৯ হাজার নিয়োগ নিয়ে বড় ধামাকা স্বাস্থ্যদপ্তরে

রাজ্যজুড়ে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য খুশির খবর। ভোটের দামামা বাজার আগেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরে শুরু হয়েছে নিয়োগের ব্যাপক তৎপরতা। চিকিৎসক থেকে নার্স, কিংবা ফার্মাসিস্ট থেকে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট— সব বিভাগেই চলছে নিয়োগের বিশাল কর্মযজ্ঞ। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৯ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
নার্সিং ও চিকিৎসকদের জন্য বড় সুযোগ
স্বাস্থ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক সার্কুলার অনুযায়ী, ‘জেনারেল নার্সিং মিডওয়াইফারি’ বা জিএনএম নার্সিং পদের জন্য ৩ হাজার ৩৬৩টি শূন্যপদ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই পদের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল আকাশছোঁয়া— প্রায় ৪০ হাজারের বেশি! ইতিমত্যেই কম্পিউটার টেস্ট ও ইন্টারভিউয়ের প্রক্রিয়া সেরে প্যানেল প্রকাশ করেছে দপ্তর। এর পাশাপাশি ২ হাজার ৬১১ জন স্টাফ নার্সও দ্রুত কাজে যোগ দিতে চলেছেন।
চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই রাজ্য। প্রতিটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৪৭টি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে প্রায় ৫২২টি শূন্যপদ ছিল, যার মধ্যে ৪১৬ জন সহকারী অধ্যাপক বা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার (GDMO) পদের ১,২২৭টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল আট গুণ বেশি। সেখান থেকে ১,১৩২ জনের একটি প্যানেল প্রস্তুত করা হয়েছে।
টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পদেও নিয়োগের হিড়িক
মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হতে চেয়ে রাজ্যে আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৪ হাজার ২৯৭টি। শূন্যপদ ছিল ৮০৭টি। ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে ১,৫৪৭ জনকে। খুব দ্রুত ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া ফার্মাসিস্টদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুব শীঘ্রই তাঁদের প্যানেলও প্রকাশ করতে চলেছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
নিয়োগ তালিকার এক নজরে পরিসংখ্যান
| পদের নাম | শূন্যপদ | আবেদনের সংখ্যা | বর্তমান স্থিতি |
| জিএনএম নার্সিং | ৩,৩৬৩ | ৪০,০০০+ | প্যানেল প্রকাশিত |
| স্টাফ নার্স | ২,৬১১ | – | নিয়োগ প্রক্রিয়াাধীন |
| জিডিএমও (চিকিৎসক) | ১,২২৭ | ৮,০৪৯ | ১,১৩২ জনের প্যানেল রেডি |
| অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর | ৫২২ | – | ৪১৬ জন নিয়োগপ্রাপ্ত |
| মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট | ৮০৭ | ৪,২৯৭ | ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে |
রাজ্যের এই বিপুল নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবাকে যেমন আরও উন্নত করবে, তেমনই কয়েক হাজার পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোটের আগে এই ‘মেগা রিক্রুটমেন্ট’ রাজ্যের কর্মসংস্থান চিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।