শহরের ৩ লক্ষ বাতিস্তম্ভে বড় বদল আনছে কলকাতা পুরসভা

শহরের ৩ লক্ষ বাতিস্তম্ভে বড় বদল আনছে কলকাতা পুরসভা

বর্ষার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর মিছিল রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল কলকাতা পুরসভা। গত বছরের মর্মান্তিক স্মৃতি আর প্রশাসনের ওপর ক্ষোভের আঁচ থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরের প্রায় ৩ লক্ষ বাতিস্তম্ভকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে এবার প্রযুক্তির ঢাল আর বাড়তি সতর্কতার মেলবন্ধনে শহরকে নিরাপদ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে পুর প্রশাসন।

জমা জলে মরণফাঁদ রুখতে অভিনব সুরক্ষা কবচ

গত বছর পুজোর আগে প্রবল বর্ষণে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় সিইএসই এবং পুরসভার ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রতিটি আলোকস্তম্ভে উন্নতমানের আর্থিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে কোনো কারণে বাতিস্তম্ভে বিদ্যুৎ লিকেজ হলেও তা সরাসরি মাটির গভীরে চলে যাবে, মানুষের সংস্পর্শে এসে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকবে না।

পিভিসি পাইপের নিরাপত্তায় মুড়ছে শহরের খুঁটি

শুধু আর্থিং নয়, নিরাপত্তার স্তরে যুক্ত করা হচ্ছে আরও একটি বিশেষ কৌশল। বাতিস্তম্ভের নীচের অংশ থেকে নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত মজবুত পিভিসি পাইপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু পিভিসি বিদ্যুৎ অপরিবাহী, তাই রাস্তা জলমগ্ন থাকলেও বা খুঁটির ভেতরে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলেও বাইরের অংশে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে পারবে না। পথচলতি সাধারণ মানুষ বা জমা জলে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদের জন্য এটি একটি নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

প্রশ্নের মুখে পুরনো পরিকাঠামো এবং পুরসভার সাফাই

শহরের এত বিপুল সংখ্যক বাতিস্তম্ভের আর্থিং ব্যবস্থা কেন আগে থেকে ঠিক ছিল না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের আধিকারিকদের দাবি, আর্থিং ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। বর্তমানে সেটিকে আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী করা হচ্ছে যাতে চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি প্রাণঘাতী না হয়ে ওঠে।

লক্ষ্যমাত্রা এবং বর্তমান পরিস্থিতি

পুরসভার শীর্ষ কর্তাদের আশা, বর্ষার মরসুম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই শহরের অধিকাংশ বাতিস্তম্ভে আর্থিং এবং পিভিসি পাইপ বসানোর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। নাগরিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। জমা জলের আতঙ্ক কাটিয়ে শহরবাসীকে একটি নিরাপদ বর্ষা উপহার দেওয়াই এখন কলকাতা পুরসভার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *