ট্রাম্পের বিশেষ শান্তি বোর্ডে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক, গাজা পুনর্গঠনে কে এই রহস্যময়ী?

বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বপ্নের প্রকল্প ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি বোর্ডের প্রথম হাই-ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো ওয়াশিংটনে। রাষ্ট্রপুঞ্জকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভারত পূর্ণ সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক হিসেবে শামিল হয়ে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। আর এই ঐতিহাসিক মঞ্চে ভারতের মুখ হয়ে যিনি বিশ্বনেতাদের নজর কেড়েছেন, তিনি হলেন দুঁদে ভারতীয় কূটনীতিবিদ নমগ্যা সি খাম্পা।
কে এই নমগ্যা সি খাম্পা এবং কেন তাঁকে ঘিরেই চর্চা
১৯৭৭ সালে জন্মানো নমগ্যা সি খাম্পা ২০০০ সালের ব্যাচের ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS) আধিকারিক। দুই দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণময় ক্যারিয়ারে তিনি বিশ্বের কঠিনতম কূটনৈতিক পিচগুলোতে সাবলীল ব্যাটিং করেছেন। বর্তমানে ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলানো খাম্পা এর আগেও একাধিকবার দিল্লির আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
- চিন ও রাষ্ট্রপুঞ্জে অভিজ্ঞতা: তিনি দুই দফায় চিনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনে কাজ করার সুবাদে আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক এবং বাজেট বিষয়ক জটিল প্যাঁচগুলো তাঁর নখদর্পণে।
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব: নেপালের কাঠমান্ডুতে উপপ্রধান এবং কেনিয়ায় ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে তিনি অত্যন্ত সফল ছিলেন। সোমালিয়ার মতো সংবেদনশীল দেশেও ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এই বিশাল অভিজ্ঞতার ঝুলিই তাঁকে ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডের বৈঠকে ভারতের অন্যতম সেরা অস্ত্র হিসেবে প্রমাণ করেছে।
ট্রাম্পের ট্রিলিয়ন ডলারের গেমপ্ল্যান এবং ভারতের অবস্থান
দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চ থেকে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন এমন এক বোর্ডের, যা কার্যত রাষ্ট্রপুঞ্জের বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করবে। ওয়াশিংটনের ‘ইনস্টিটিউট অফ পিস’-এ আয়োজিত এই প্রথম বৈঠকে ট্রাম্পের মেজাজ ছিল আকাশছোঁয়া। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, কাতার এবং কুয়েতের মতো দেশগুলো থেকে সংগৃহীত হবে ৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমেরিকা একাই দেবে ১০ বিলিয়ন ডলার।
পর্যবেক্ষক হিসেবে ভারতের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তাই স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মোদী সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও ট্রাম্পের এই নতুন মঞ্চটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ভারত। সাতাশটি পূর্ণ সদস্য দেশের ভিড়ে ভারতের এই কৌশলী অবস্থান আগামীর ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।