আফগানিস্তানে নারীবিরোধী নয়া দণ্ডবিধি: তালিবানি ফতোয়ায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

আফগানিস্তানে তালিবান সরকার এক বিতর্কিত দণ্ডবিধি জারি করে গার্হস্থ্য হিংসাকে কার্যত বৈধতা দিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা হিবাতোল্লা আখুন্দজাদার নির্দেশে প্রণীত এই আইনে স্বামীদেরকে স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিক শাস্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, আঘাতের ফলে হাড় না ভাঙলে একে অপরাধ গণ্য করা হবে না। হাড় ভাঙলে অপরাধীর সর্বোচ্চ মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। ২০০৯ সালের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন বাতিল করে এই চরমপন্থী নীতি কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে নারীদের অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো বিবাহিতা নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়র বাড়ি গেলে তিন মাসের জেল হতে পারে। এছাড়া, নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে আদালতে যাওয়ার সময় সঙ্গে স্বামী বা পুরুষ অভিভাবক থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে ক্ষত দেখানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল তালিবানের এই মধ্যযুগীয় ও নারীবিদ্বেষী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এই দণ্ডবিধিতে সামাজিক বিভাজন অনুসারে শাস্তির ভিন্নতা রাখা হয়েছে। ধর্মীয় পণ্ডিত বা অভিজাত শ্রেণির অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল পরামর্শ বা তলবের বিধান থাকলেও, নিম্নবিত্তদের জন্য কঠোর শারীরিক শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলামি ধর্মগুরুদের মাধ্যমে এই সাজা কার্যকর করা হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই আইন আফগান নারীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তে পক্ষপাতমূলক এই নীতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।