কিডনি অকেজো হওয়ার ৫ বছর আগেই মিলবে সতর্কবার্তা, নতুন পরীক্ষায় দিশা

কিডনি অকেজো হওয়ার ৫ বছর আগেই মিলবে সতর্কবার্তা, নতুন পরীক্ষায় দিশা

ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা কিডনির দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কমবয়সিদের মধ্যে পাথর জমা, সংক্রমণ এবং পলিসিস্টিক কিডনির মতো সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা বারবার মূত্রনালির সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রচলিত কিডনি ফাংশন টেস্টের (KFT) চেয়েও আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় রোগ ধরা পড়ার অনেক আগেই শরীর সংকেত দিতে শুরু করে।

প্রচলিত ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষায় কিডনি প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সমস্যা ধরা পড়ে। এর বিকল্প হিসেবে ‘ইউরিন অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও’ বা ইউরিন এসিআর (Urine ACR) পরীক্ষাটি অত্যন্ত কার্যকর। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন প্রোটিনের নিঃসরণ পরিমাপ করা হয়। কিডনির ছাঁকনি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেই এই প্রোটিন নির্গত হতে শুরু করে, যা সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। ফলে কিডনি বিকল হওয়ার অন্তত পাঁচ বছর আগেই ঝুঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

ইউরিন এসিআর পরীক্ষায় প্রোটিন ও ক্রিয়েটিনিনের অনুপাত ৩০-এর নিচে থাকলে কিডনি সুস্থ বলে গণ্য করা হয়। এই মাত্রা ৩০ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘মাইক্রোঅ্যালবুমিনুরিয়া’ বা রোগের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সঠিক চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। তবে মাত্রা ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে তা গুরুতর ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। ৫০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে এই পরীক্ষাটি করিয়ে নিলে কিডনির বড়সড় বিপদ থেকে আগেভাগেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *