একুশের প্রথম প্রহরে জাগবে বাংলাদেশ, রক্তস্নাত সেই ইতিহাস আজও শিহরণ জাগায় বাঙালির মনে

একুশের প্রথম প্রহরে জাগবে বাংলাদেশ, রক্তস্নাত সেই ইতিহাস আজও শিহরণ জাগায় বাঙালির মনে

নিউজ ডেস্ক : শুক্রবার মধ্যরাতের স্তব্ধতা ভেঙে একুশের প্রথম প্রহরে জেগে উঠবে গোটা বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই এখন সাজ সাজ রব। লাখো মানুষের পদভারে মুখরিত হবে শহিদ মিনার। হাতে থাকবে পুষ্পস্তবক, আর কণ্ঠে সেই চিরচেনা গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। ১৯৫২ সালের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলো আজও বাঙালির ধমনীতে স্বাধীনতার বীজ বুনে দেয়।

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা: এক রক্তাক্ত সংগ্রামের মহাকাব্য

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই বাঙালির ওপর নেমে এসেছিল সাংস্কৃতিক শৃঙ্খল। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত শুরু করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনতা সেই অন্যায় মেনে নেয়নি। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। কারান্তরালে থেকেও তিনি আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন রাজপথে।

একুশে ফেব্রুয়ারি এবং সেই অমর আত্মত্যাগ

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যখন ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে মিছিল নামে, তখন পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়েন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের মতো অকুতোভয় সন্তানরা। রাজপথ রঞ্জিত হয় তাজা রক্তে। এই আত্মদানই ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম সোপান। যা পরবর্তীকালে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তিতে পরিণত হয়।

বিশ্বমঞ্চে বাঙালির জয়জয়কার

বাঙালির এই ত্যাগের মহিমা আজ আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আজ সারা বিশ্বের মানুষ নিজ নিজ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির এই লড়াইকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

নতুন প্রজন্মের প্রেরণা এই একুশ

ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। বঙ্গবন্ধুর আপসহীন নেতৃত্ব এবং শহিদদের রক্ত আজ আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। আজকের প্রজন্মের কাছে এই দিনটি কেবল শোকের নয়, বরং মাথা উঁচু করে বাঁচার এক অফুরন্ত প্রেরণা। যুগ থেকে যুগান্তরে এই ইতিহাস অম্লান থাকবে—কারণ এটি আমাদের শিখিয়েছে মাতৃভাষার প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *