শাহবাজ কি শুধুই পুতুল শাসক? পাকিস্তান কি ফের পর্দার আড়ালে থাকা সেনাপ্রধানের কবজায়

পাকিস্তানের মসনদে শাহবাজ শরিফ বসে থাকলেও আসল রাশ কি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হাতে? সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে এই প্রশ্নই দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে আসিম মুনিরকে দেশের প্রথম ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ করার পর সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। কারণ, এই পদের দৌলতে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এখন সরাসরি সেনাপ্রধানের হাতের মুঠোয়।
কী জানালেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
এই বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। ‘ফ্রান্স ২৪’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে পাকিস্তানে সেনাশাসনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘হাইব্রিড সরকার’ বলে অভিহিত করেছেন। আসিফের দাবি, সেনাবাহিনী এখন নির্বাচিত সরকারকে সহায়তা করছে মাত্র। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সেনাপ্রধান তাঁর ‘বস’ নন এবং দেশ এখন সরাসরি সামরিক শাসনে নেই।
পর্দার আড়ালে মুনিরের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা
সূত্রের খবর, সেনাপ্রধানের এই নজিরবিহীন পদোন্নতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রাথমিক আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও গদি বাঁচাতে সেনাপ্রধানের শক্তিবৃদ্ধিতে সায় দিয়েছেন। ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদা থেকে শুরু করে আইনি দায়বদ্ধতা থেকে আজীবন মুক্তি— আসিম মুনির এখন পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
ভারত ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
মুনিরের নেতৃত্বে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং ভারত-বিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাক সেনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও মুনিরের দাপট কমেনি। উল্টে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং প্রশংসা মুনিরকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। ফলে শাহবাজ সরকার এখন আক্ষরিক অর্থেই সেনার ছত্রছায়ায় টিকে আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।