রাশিয়ার তেল নিয়ে কড়া বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের! ভারতের জন্য কি বড় কোনো সুযোগ অপেক্ষা করছে

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন যে আমেরিকা চায় না ভারত বা অন্য কোনো দেশ রাশিয়ার থেকে তেল কিনুক। তবে এই কঠোর বার্তার পাশাপাশি ভারতের জন্য এক বিশাল বাণিজ্যিক উপহারের ইঙ্গিতও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
রুশ তেল আমদানিতে আমেরিকার রেড সিগন্যাল
সার্জিও গর জানান যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান। আর সেই কারণেই রাশিয়ার তেলের ওপর বিশ্বজুড়ে নির্ভরতা কমাতে মরিয়া আমেরিকা। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কথায় ভারত এখন তেলের বিকল্প উৎস খুঁজছে যা ওয়াশিংটনের নজর কেড়েছে। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক নিজেদের অবস্থানে অনড়। ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো উৎস থেকে তেল কেনাকেই ভারতের কৌশলগত অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের জন্য কি বড় কোনো উপহার আসছে
রাশিয়ার তেল নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই দানা বাঁধছে এক নতুন সমীকরণ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ টেনে গর বলেন যে দুই দেশের প্রতিনিধি দল দিনরাত এক করে কাজ করছেন এবং খুব শীঘ্রই এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হতে চলেছে।
প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন জোট ‘প্যাক্স সিলিকা’
আমেরিকা কেবল বাণিজ্য নয় বরং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও ভারতকে প্রধান সঙ্গী হিসেবে চাইছে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ আশা প্রকাশ করেছেন যে ভারত আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ (PAX SILICA) উদ্যোগে শামিল হবে। এটি কোনো সাধারণ ভূ-রাজনৈতিক জোট নয় বরং একটি দক্ষতাভিত্তিক জোট। আমেরিকার বিশ্বাস ভারতের অঢেল মেধা ও উৎপাদন ক্ষমতা বিশ্ববাজারে গবেষণার খরচ কমিয়ে সাপ্লাই চেইনকে আরও শক্তিশালী করবে।
এআই বিপ্লবে আমেরিকার বিশ্বস্ত সঙ্গী ভারত
হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মাইকেল ক্র্যাটসিওস জানিয়েছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সুফল বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে ভারতের চেয়ে ভালো সঙ্গী আর কেউ হতে পারে না। গ্লোবাল সাউথের প্রথম বিশ্বমানের এই এআই সামিটে অংশ নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেছেন যে প্রযুক্তি রপ্তানি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
ভারত একদিকে যেমন নিজের জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে চাইছে অন্যদিকে আমেরিকার সাথে এই নতুন প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব দেশটির অর্থনীতির জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয় ট্রাম্পের এই তেলের ‘শর্ত’ ও বাণিজ্যের ‘টোপ’ ভারত কীভাবে সামাল দেয়।