লিভারের ঘাতক রোগ কোলাঞ্জাইটিস, লক্ষণ ও প্রতিকারে জরুরি সতর্কতা

লিভারের সমস্যা বলতেই সাধারণ মানুষ কেবল ফ্যাটি লিভার বা সিরোসিসকে বোঝেন, তবে ‘কোলাঞ্জাইটিস’ তার চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এটি মূলত পিত্তনালির প্রদাহ বা সংক্রমণজনিত একটি জটিল রোগ, যা সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে প্রাণঘাতী হতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, পিত্তরসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হলে বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটলে এই রোগ বাসা বাঁধে। বিশেষত পিত্তথলিতে পাথর, টিউমার কিংবা অটোইমিউন সমস্যার কারণে পিত্তনালিতে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, জন্ডিস এবং পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে প্রচণ্ড যন্ত্রণা কোলাঞ্জাইটিসের প্রাথমিক উপসর্গ। এছাড়া বমি ভাব, গাঢ় প্রস্রাব এবং ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা একে সাধারণ গ্যাস-অম্বল ভেবে ভুল করেন, যা পরবর্তীকালে লিভারে পুঁজ জমা বা সেপসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। চল্লিশোর্ধ্ব নারী এবং লিভারের পুরনো রোগীদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
কোলাঞ্জাইটিস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অপরিহার্য। মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করা এবং পিত্তথলিতে পাথর বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসা না করালে লিভার বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যার চূড়ান্ত সমাধান কেবল লিভার প্রতিস্থাপন। তাই শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তি উপেক্ষা না করে সচেতন থাকাই এই ঘাতক ব্যাধি থেকে মুক্তির প্রধান উপায়।