নামে হলুদ, কিন্তু নীল রঙ! এই রহস্যময় কন্দে কি লুকিয়ে ক্যানসারের ওষুধ?

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ‘ব্ল্যাক টারমারিক’ বা কালো হলুদ নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। আদার মতো দেখতে এই কন্দের বাইরের অংশ কালো হলেও এর ভিতরের শাঁস গাঢ় নীল বা বেগুনি রঙের। বৈজ্ঞানিক নাম ‘কারকিউমা সেসিয়া’ যুক্ত এই বিশেষ প্রজাতির হলুদ মূলত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যপ্রদেশে পাওয়া যায়। প্রচলিত হলুদের চেয়ে এর স্বাদ ও গন্ধ ভিন্ন; এটি স্বাদে তেতো এবং গন্ধে অনেকটা কর্পূরের মতো।
গবেষণায় দেখা গেছে, কালো হলুদে থাকা ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এর নীল রঙের উৎস। এই উপাদানটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে বলে প্রাথমিক কিছু তথ্যে জানা গেছে। এছাড়াও এটি ফুসফুসের প্রদাহজনিত সমস্যা, যেমন—হাঁজল ও ব্রঙ্কাইটিস নিয়ন্ত্রণে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এবং হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা কমাতেও এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কালো হলুদ সাধারণ রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য নয়। এটি মূলত ভেষজ ওষুধ হিসেবে সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন, তাঁদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত। ক্যানসার নিরাময়ে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তাই এটি সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।