২০২৬-এ শিলিগুড়ির মহাযুদ্ধ, উত্তরবঙ্গের ‘মিনি কলকাতা’ কি ফেরাবে ঘাসফুল নাকি ফুটবে পদ্ম

শিলিগুড়ি মানেই রাজনীতির এক অদ্ভুত গোলকধাঁধা। একসময়ের লাল দুর্গ, যা পরে ঘাসফুলের দখলে গিয়েছিল, আজ সেখানে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের এই প্রাণকেন্দ্র কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ‘মিনি কলকাতা’ হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ শহরটি কি তার রাজনৈতিক চরিত্র ফের বদলাতে চলেছে, নাকি বিজেপি তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে?
শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণ ও পালাবদলের ইতিহাস
শিলিগুড়ির বিধানসভা কেন্দ্রের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই মাটি বারবার তার রায় বদলেছে। ১৯৯১ থেকে টানা চারবার এই কেন্দ্র ছিল বামেদের দখলে, যার কাণ্ডারি ছিলেন দাপুটে নেতা অশোক ভট্টাচার্য। কিন্তু ২০১১-র ঝড়ে সেই অজেয় দুর্গে ফাটল ধরে। তৃণমূলের ড. রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য পরাজিত করেন অশোকবাবুকে। যদিও ২০১৬-তে ফের কামব্যাক করেন অশোক ভট্টাচার্য, কিন্তু ২০২১-এর নির্বাচনে পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়।
২০২১-এর সেই নাটকীয় মোড়
গত বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি দেখেছিল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক। অশোক ভট্টাচার্যের একসময়ের ছায়াসঙ্গী শঙ্কর ঘোষ সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং গেরুয়া টিকিটে প্রার্থী হন। ফল যা হয়েছিল তা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের চমকে দেওয়ার মতো। ২০১৬-তে যে বিজেপি মাত্র ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, ২০২১-এ তারা একলাফে ৫০ শতাংশ ভোট দখল করে। তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী ওমপ্রকাশ মিশ্রকে ৩৫,৫৮৬ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন শঙ্কর ঘোষ। বামেরা নেমে যায় তৃতীয় স্থানে।
২০২৬-এর ময়দানে কে কোথায় দাঁড়িয়ে
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ির জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরবঙ্গ জুড়ে শাসকদলের বিশেষ নজরদারি এবং সাংগঠনিক রদবদল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা এবার কোনও খামতি রাখতে চায় না। অন্যদিকে, বিজেপি তাদের এই মজবুত ঘাঁটি ধরে রাখতে তৎপর। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনঘন সফর এবং স্থানীয় স্তরে জনসংযোগ বাড়িয়ে পদ্ম শিবির তাদের লিড ধরে রাখার কৌশল সাজাচ্ছে।
ত্রিমুখী নাকি দ্বিমুখী লড়াই
রাজনৈতিক মহলের মতে, এক সময়ের প্রধান শক্তি সিপিএম এখন শিলিগুড়িতে কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে। গত নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোট ১৬ শতাংশে নেমে আসায়, ২০২৬-এ তারা কতটা ফ্যাক্টর হতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হতে চলেছে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যেই। এসআইআর (SIR) ইস্যু থেকে শুরু করে স্থানীয় উন্নয়ন— সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির ভোটবাক্স এবার কোন দিকে ঝুঁকবে, তার ওপর নির্ভর করছে উত্তরবঙ্গের আগামীর রাজনীতি।