২০৪৭ সালে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং এআই সুনামি কি বদলে দেবে ভারতের ভাগ্য?

২০৪৭ সালে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং এআই সুনামি কি বদলে দেবে ভারতের ভাগ্য?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বিষয় নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অনিবার্য ‘সুনামি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তর করার যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, সেই যাত্রায় এআই একাধারে যেমন বড় অনুঘটক, ঠিক তেমনি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) থেকে শুরু করে প্রযুক্তি বিশ্বের দিকপালরা এখন এই দ্বিমুখী সম্ভাবনা নিয়ে ভারতকে সতর্ক করছেন।

কর্মসংস্থানে বড় ওলটপালট এবং আইএমএফের সতর্কতা

আইএমএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিভা এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছেন যে, এআই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। উন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রভাব ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে ভারতের জন্য আশার আলো হলো, এই প্রযুক্তি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। ভারতের ২০৪৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এআই-এর এই বাড়তি গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে আইএমএফ।

বদলে যাবে কাজের ধরন কী বলছেন নন্দন নিলেকানি

ইনফোসিসের চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানি এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবকে দেখছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। তাঁর মতে, কোডিং বা প্রথাগত কাজের দিন ফুরিয়ে আসছে। এখন মূল ফোকাস থাকবে এআই সিস্টেম পরিচালনা করার ওপর। নিলেকানি ভবিষ্যৎবাণী করেছেন যে, এআই বিশ্বজুড়ে ১৭ কোটি নতুন উচ্চ-মানের কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সংযোজন নয়, বরং ব্যবসা পরিচালনার মূল দর্শনই বদলে দিচ্ছে।

কাজ হারানো নয় বরং কাজের বিভাজন

মাইক্রোসফট ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনীত চন্দক মনে করেন, এআই মানুষের চাকরি পুরোপুরি কেড়ে নেবে না। বরং এটি বর্তমানের বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট টাস্কে ভাগ করে দেবে। পুরোনো কর্মপদ্ধতি এখন অচল হয়ে পড়বে এবং যারা এই নতুন প্রযুক্তির সাথে দ্রুত তাল মিলিয়ে নিতে পারবেন, ভবিষ্যৎ হবে একমাত্র তাদেরই।

ভারতের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো, ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এআই-কে সঙ্গী করে কীভাবে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। উন্নয়নের এই নতুন মডেলে টিকে থাকতে হলে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *