প্রতীক উরকে হারিয়ে শোকাতুর মহম্মদ সেলিম, বিস্ফোরক সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক

প্রতীক উরকে হারিয়ে শোকাতুর মহম্মদ সেলিম, বিস্ফোরক সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিপিআইএম-এর তরুণ তুর্কি এবং পরিচিত মুখ প্রতীক উরের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করল দল। শুক্রবার রাজ্য কমিটির ম্যারাথন বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন মহম্মদ সেলিম। তবে এই বিচ্ছেদ যে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ের যন্ত্রণাদায়ক, তা সেলিমের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রতীক উরকে নিয়ে সেলিমের আবেগঘন মন্তব্য এবং গুরুতর অভিযোগ

প্রতীক উরের দলত্যাগ নিয়ে মহম্মদ সেলিম অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মের একজন কর্মীকে তৈরি করতে দলের প্রচুর বিনিয়োগ এবং পরিশ্রম থাকে। তাকে হারানো মানে অনেকটা নিজের সন্তানকে হারানোর মতো কষ্টের।” তবে কেবল আবেগ নয়, সেলিমের গলায় ছিল প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি এবং বিস্ফোরক কিছু তথ্যের ইঙ্গিত। তিনি দাবি করেন যে, গত দুই মাস ধরে প্রতীকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আসছিল দলের কাছে। যখন সেই অভিযোগগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া চলছিল, ঠিক তখনই দলের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন প্রতীক। সেলিমের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “দলের সঙ্গে যোগাযোগ কমলেও অন্য কোথাও হয়তো প্রতীকের যোগাযোগ বাড়ছিল।” এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

নির্বাচনী রণকৌশল ও জোটের ভবিষ্যৎ

প্রতীক ইস্যু ছাপিয়ে এদিন বামেদের নির্বাচনী প্রস্তুতির রূপরেখাও তুলে ধরেন সেলিম। আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পলিটব্যুরোর বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত শিলমোহর পড়বে। সেলিমের দৃঢ় দাবি, বাংলাকে বাঁচাতে বামপন্থার পুনরুত্থান ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

আন্দোলনের পথেই বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী লড়াই

সারাদেশ জুড়ে শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে বামপন্থীরা যে রাজপথে নামছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেলিম জানান, মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় সিপিআইএম লড়াই চালিয়ে যাবে। একদিকে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তায়, ঠিক সেই সময় প্রতীক উরের মতো উদীয়মান নেতার দলত্যাগ বাম শিবিরের অন্দরে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের আবহে এই ‘সন্তান বিচ্ছেদ’ বামেদের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *