পরীক্ষার মাঝে মাইক বাজিয়ে বিতর্কে শমিক ভট্টাচার্য!

পরীক্ষার মাঝে মাইক বাজিয়ে বিতর্কে শমিক ভট্টাচার্য!

রাজ্যে এখন বোর্ড পরীক্ষার মরসুম। চারিদিকে চলছে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্যজুড়ে লাউডস্পিকার ব্যবহারের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই আসানসোলের কুলটিতে বিজেপির এক কর্মী সম্মেলনে চলল তারস্বরে মাইক। আর সেই নিয়ে প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য।

ঠিক কী ঘটেছিল কুলটিতে?

আসানসোলের কুলটি এলাকার জিটি রোডের পাশে একটি খোলা ময়দানে বিজেপির কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শমিক ভট্টাচার্য। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সেই সভায় দীর্ঘক্ষণ ধরে উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজিয়ে ভাষণ দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই সাংবাদিকরা যখন শমিক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করেন, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সাংবাদিকের প্রশ্নে মেজাজ হারালেন বিজেপি সভাপতি

পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা মনে করিয়ে দিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয় যে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কেন মাইক বাজানো হচ্ছে? উত্তরে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন শমিক ভট্টাচার্য। অত্যন্ত বিরক্তির সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কি আমার নিজের বাড়িতে মাইক বাজিয়েছি? কাল তো আপনারা বলবেন বিছানায় শুয়োনা, মাটিতে শোও! এমন কি কোথাও হয়?” বিজেপি নেতার এমন মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ ও আইনি প্রশ্ন

বিজেপির এই কর্মকাণ্ডকে ‘আইনি অপরাধ’ হিসেবে দেগে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল শিক্ষা সেলের জেলা সভাপতি রাজীব মুখোপাধ্যায় কড়া ভাষায় সমালোচনা করে জানান, এটি সরাসরি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা। খোলা আকাশের নিচে এভাবে মাইক ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কেন কোনও পদক্ষেপ নিল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবির।

বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই যুক্তি এবং সভার দাপট এখন রাজনৈতিক মহলে তর্কের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যখন ছাত্রছাত্রীরা নিস্তব্ধ পরিবেশে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন রাজনৈতিক সভার এই উচ্চগ্রামের আওয়াজ সাধারণ মানুষের মনেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *