ছেলেধরা সন্দেহে মা-মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, ৯ বছর পর ২৫ জনের সাজা ঘোষণা

হুগলির বলাগড়ে ৯ বছর আগে ছেলেধরা সন্দেহে মা, মেয়ে ও তাঁদের গাড়িচালককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় দিল চুঁচুড়া আদালত। শুক্রবার ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বিচারক পীযূষকান্তি রায় এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শুনিয়েছেন। আদালতের এই রায়কে সামাজিক অপরাধ দমনে এক বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি আসানপুর গ্রামে ওই পরিবারকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত হয় পুলিশও; একজন সিভিক ভলান্টিয়ার তিরবিদ্ধ হন এবং ১১ জন পুলিশকর্মী জখম হন। ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে ২৭ জন সাক্ষীর বয়ান ও উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিচারক এই মামলায় গোপাল রায় ও পূর্ণিমা মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৩ জন দোষীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবী জানান, পুলিশের ওপর হামলা এবং সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধে একসঙ্গে এতজনের সাজা ঘোষণা বিচারব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।