সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন ও কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি! ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কি নির্ভুল ভোটার তালিকা পাবে বাংলা

সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন ও কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি! ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কি নির্ভুল ভোটার তালিকা পাবে বাংলা

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠকে রীতিমতো মেজাজ হারালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। সাফ জানিয়ে দিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আর কোনো ‘ছেলেখেলা’ বরদাস্ত করা হবে না।

নির্ধারিত সময়েই তালিকা প্রকাশের চ্যালেঞ্জ

কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ফোনে কথা বলেন মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় জেলা স্তরের আধিকারিকদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে কমিশন। বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, বকেয়া কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে এবং তাতে যেন কোনো ফাঁকিবাজি না থাকে।

আধিকারিকদের বাড়তি সময়ের দাবি ও কমিশনের অবস্থান

বৈঠকে বেশ কয়েকজন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ভোটারদের তথ্য যাচাই বা ‘স্ক্রুটিনি’ করার জন্য অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ দিন সময় চেয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, নির্ভুল তালিকা তৈরি করতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে সিইও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সময়ের দোহাই দিয়ে কাজ ফেলে রাখা যাবে না। যতটা দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে ২৮ তারিখেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে অমীমাংসিত অভিযোগগুলোর জন্য পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে, কিন্তু মূল সময়সীমা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও বিচারকদের নিয়োগ

এসআইআর (SIR) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ মেটাতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে প্রতিটি জেলায় কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারক নিয়োগ করতে হবে। এই বিচারকরা অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ তদারকি করবেন এবং তাঁদের সাহায্য করবেন নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভাররা। আদালতের এই কড়া মনোভাবের কারণেই রাজ্য কমিশন এখন বাড়তি সতর্ক।

স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত তালিকার লক্ষ্য

কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা উপহার দেওয়া। তালিকায় যেন কোনো ভুয়ো নাম বা তথ্যের ভুল না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে এই বিপুল কাজ সম্পন্ন করা এখন জেলা আধিকারিকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *