যৌন মিলন ছাড়া বীর্যপাত ধর্ষণ নয়: ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বিতর্কিত রায়

যৌন মিলন ছাড়া বীর্যপাত ধর্ষণ নয়: ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বিতর্কিত রায়

২০০৪ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট এক তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, যোনিতে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ না করিয়ে কেবল বীর্যপাত ঘটানো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য হবে না। এই ধরণের ঘটনাকে ৩৭৬ এবং ৫১১ ধারার অধীনে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতের এই রায় আইনি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

মামলাটির বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি এক মহিলাকে জোরপূর্বক নিজ বাড়িতে আটকে রেখে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিলেও হাইকোর্টে আপিল করা হয়। সেখানে মেডিক্যাল রিপোর্টে নির্যাতিতার সতীচ্ছদ অক্ষত থাকার প্রমাণ পেশ করেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী। এর ভিত্তিতেই আদালত মূল অপরাধের ধারা পরিবর্তন করে সাজার মেয়াদ কমিয়ে সাড়ে তিন বছর নির্ধারণ করেছে।

এই রায় সামনে আসার পর নারী অধিকারকর্মী ও আইনজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত মূলত আইনের যান্ত্রিক সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শারীরিক মিলন না ঘটলেও ভুক্তভোগীর মানসিক ট্রমা ও নিগ্রহের ভয়াবহতাকে এই ব্যাখ্যা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের আইনি প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের সংজ্ঞার এই ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *