বলাগড়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনি ও অগ্নিসংযোগ: ২ জনের যাবজ্জীবন, দণ্ডিত আরও ২৩

বলাগড়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনি ও অগ্নিসংযোগ: ২ জনের যাবজ্জীবন, দণ্ডিত আরও ২৩

২০১৭ সালে হুগলির বলাগড়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে মা, মেয়ে ও গাড়ির চালককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় দিল চুঁচুড়া আদালত। শুক্রবার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক এই চাঞ্চল্যকর মামলায় দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ২৩ জন দোষীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবীর মতে, একসঙ্গে ২৫ জনের সাজা ঘোষণা বিচারবিভাগীয় ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।

ঘটনার সূত্রপাত ২১ জানুয়ারি, যখন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী ও মেয়ে পরিচারিকার খোঁজে আসানপুর গ্রামে গিয়েছিলেন। অচেনা ব্যক্তিদের দেখে গ্রামে ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে উন্মত্ত জনতা তাঁদের গাড়ি ঘিরে ফেলে মারধর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আক্রান্ত হন পুলিশকর্মীরাও, এমনকি এক সিভিক ভলান্টিয়ার তিরবিদ্ধ হয়েছিলেন।

তদন্তকারী আধিকারিক অলোক চট্টোপাধ্যায়ের পেশ করা চার্জশিট ও ২৭ জন সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে আদালত এই সাজা ঘোষণা করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আক্রান্ত পরিবার ও পুলিশ প্রশাসন। গুজবের জেরে আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরিণাম যে ভয়াবহ হতে পারে, এই রায় সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *