পরিবহন খাতে ‘সমঝোতার’ নামে অর্থ আদায়: সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যে বিতর্কের ঝড়

পরিবহন খাতে ‘সমঝোতার’ নামে অর্থ আদায়: সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যে বিতর্কের ঝড়

বাংলাদেশের পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাম্প্রতিক মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের কল্যাণে সমঝোতার ভিত্তিতে যে অর্থ আদায় করে, তাকে তিনি ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, কাউকে বাধ্য না করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে টাকা তোলা হলে তা অলিখিত বিধির মতো, যা সংগঠনের কাজেই ব্যয় হয়।

তবে এই বক্তব্যকে অপরাধের বৈধতা দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে বা ঘাটে অর্থ দেওয়া এখন অনেকটা বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে। ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস চালকদের অভিযোগ, শ্রমিক উন্নয়নের লেবাসে এই অর্থ আদায় করা হলেও আদতে এটি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি করে।

সেতুমন্ত্রীর এই অবস্থান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পণ্য বা যাত্রী পরিবহনে এমন ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ দুর্নীতিকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিপরীতে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এমন বক্তব্য পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *