ইরান-মার্কিন উত্তেজনা: আত্মসমর্পণের চেয়ে সংঘাতের পথেই কি তেহরান?

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও রণতরী মোতায়েন তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উত্থাপিত শর্তগুলোকে ইরান আলোচনার পরিবর্তে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার মতো দাবিগুলো মেনে নিলে ইরানের দীর্ঘকালীন ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির কাছে কৌশলগত পশ্চাদপসরণ বা শর্ত মেনে নেওয়া সামরিক সংঘাতের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক মনে হতে পারে। যদিও মার্কিন অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও আইআরজিসি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও তেহরান তাদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে আপসহীন অবস্থান নিচ্ছে। দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও জনঅসন্তোষ এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের জন্যও এই সংঘাতের ঝুঁকি কম নয়। সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হলেও, ক্ষমতার শূন্যতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে খামেনি এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন, যেখানে তিনি মার্কিন শর্ত প্রত্যাখ্যান করে একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য যুদ্ধের ঝুঁকি গ্রহণকেই হয়তো টিকে থাকার শেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।