মাত্র ১৫ মিনিটের শপিংয়েই সর্বনাশ! ইঞ্জিনিয়ারের ফাঁকা বাড়িতে দুঃসাহসিক হানা

মাত্র ১৫ মিনিটের শপিংয়েই সর্বনাশ! ইঞ্জিনিয়ারের ফাঁকা বাড়িতে দুঃসাহসিক হানা

বর্ধমান

ভরা সন্ধ্যা, জনবহুল এলাকা, আর তার মাঝেই কার্যত রণক্ষেত্রের কায়দায় অপারেশন চালিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। বর্ধমান শহরের সুরক্ষিত বলে পরিচিত অফিসার্স কলোনি এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা চুরির ঘটনা। বর্ধমান পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনার অলঙ্কার লুঠ করে নিয়ে গেল তিন জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল। মাত্র ১৫ মিনিটের অসতর্কতায় যেভাবে সর্বস্ব খুইয়ে পথে বসার জোগাড় হয়েছে ওই পরিবারের, তাতে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অফিসার্স কলোনির বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উৎপল চক্রবর্তীর ছেলে রণি চক্রবর্তী পেশায় বর্ধমান পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার। শুক্রবার সন্ধ্যায় রণিবাবু যখন নিজের অফিসে কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময় তাঁর স্ত্রী ঘরের দরজায় তালা দিয়ে পাশের একটি শপিং মলে গিয়েছিলেন জরুরি কিছু কেনাকাটা করতে। বাড়িতে তখন কেউ ছিল না। এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা। ঠিক যেন পেশাদার ‘কালনাগিনী’র ছোবল— নিখুঁত পরিকল্পনায় তারা বাড়িতে প্রবেশ করে।

গৃহকর্তা উৎপল চক্রবর্তী জানান, তাঁর পুত্রবধূ সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য শপিং মলে গিয়েছিলেন। কাজ সেরে ফিরে আসার সময় তিনি বাড়ির সামনে একটি সন্দেহভাজন বাইক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ঘরে ঢুকেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! দেখেন আলমারি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে বোঝা যায়, বড়সড় চুরির কবলে পড়েছেন তাঁরা।

লুঠের খতিয়ান ও সিসিটিভি ফুটেজ

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আলমারির লকার ভেঙে দুষ্কৃতীরা প্রায় ১২ ভরি সোনার গয়না এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। বর্তমান বাজারে লুঠ হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনটি দুষ্কৃতী একটি বাইকে করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় মুখ শনাক্ত করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের।

পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ

শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকায় এই ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অফিসার্স কলোনির মতো এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। পুলিশি টহলদারির অভাবেই দুষ্কৃতীদের সাহস আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ভরা সন্ধ্যায় জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বর্ধমান থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সোর্সদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের দাবি, খুব শীঘ্রই এই চক্রটিকে জালে তোলা সম্ভব হবে। তবে শপিং মলে কাটানো সেই সামান্য ১৫ মিনিট যে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে, তা কল্পনাও করতে পারছেন না রণি চক্রবর্তীর পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *