আরএসএস মানহানি মামলায় বড় আপডেট নিয়ে সশরীরে ভিবন্ডি আদালতে হাজির রাহুল গান্ধী

আরএসএস মানহানি মামলায় বড় আপডেট নিয়ে সশরীরে ভিবন্ডি আদালতে হাজির রাহুল গান্ধী

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের উত্তাপ এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় শনিবার মহারাষ্ট্রের ঠাণে জেলার ভিবন্ডি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। স্রেফ আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই এদিন মুম্বই হয়ে সড়কপথে আদালতে পৌঁছান তিনি।

কেন হঠাৎ আদালতে যেতে হলো রাহুলকে?

এই মামলায় রাহুল গান্ধীর দীর্ঘদিনের জামিনদার ছিলেন দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবরাজ পাতিল। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর প্রয়াণের পর আইনি জটিলতা তৈরি হয়। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, পুরনো জামিনদারের মৃত্যু হলে নতুন গ্যারান্টার বা জামিনদার নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক। সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এদিন সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হয় কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতাকে।

হর্ষবর্ধন সকলপাল হলেন নতুন জামিনদার

এদিন সকালে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে মুম্বই নামার পর কড়া নিরাপত্তায় ভিবন্ডি পৌঁছান রাহুল। সেখানে মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (MPCC) সভাপতি হর্ষবর্ধন সকলপালকে নিজের নতুন জামিনদার হিসেবে আদালতের সামনে পেশ করেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, জামিনের নতুন নথিপত্র এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য রাহুলের ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন। সেই নির্দেশ মেনেই যাবতীয় আইনি কাজ শেষ করেন তিনি।

ঠিক কী ছিল সেই পুরনো বিবাদ?

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন। ভিবন্ডির সোনালের একটি জনসভায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, মহাত্মা গান্ধীর হত্যার নেপথ্যে আরএসএস-এর হাত ছিল। রাহুলের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই মানহানির মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন আরএসএস কর্মী রাজেশ কুন্তে। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা এই মামলাতেই শনিবার নতুন মোড় এল।

দুর্ভেদ্য নিরাপত্তায় মোড়া ছিল আদালত চত্বর

হাই-প্রোফাইল এই শুনানির কথা মাথায় রেখে ঠাণে পুলিশ গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছিল। অশান্তি এড়াতে আদালত চত্বরের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের কাজ সেরে রাহুল গান্ধী ফের সড়কপথে মুম্বই বিমানবন্দরে ফিরে যান এবং সেখান থেকেই বিকেলে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে আপাতত নতুন জামিনদারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, মূল মামলাটি এখনও বিচারাধীন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে এই ইস্যু মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *